সিলেটটুডে ডেস্ক

২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ২০:২২

ভাঙা হলো সাংসদের বিতর্কিত সেই দেয়াল

খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আজিজের বাড়ির চারপাশে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হকের দেওয়া উঁচু দেয়াল ভাঙা হয়েছে।

রোববার দুপুরে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রথমে দেয়ালের একাংশ ভাঙা হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে পুরো দেয়াল ভাঙার কাজ শুরু হয়।

এর ফলে আবদুল আজিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের এক বছরের বন্দিদশার অবসান ঘটল। সরকার ও প্রশাসনের এই উদ্যোগে সন্তুষ্ট আজিজ পরিবার।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আবদুল আজিজের পরিবারের বন্দিদশার সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে তোলপাড় শুরু হয় সাধারণ মানুষ, প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে। অবশেষে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এই দেওয়াল ভাঙা হলো।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফকরুল হাসান বেলা ১২টার দিকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে সরল গ্রামে ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজের বাড়িতে যান। তিনি আবদুল আজিজের জমির কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এরপর ১ একটার দিকে ইউএনওর নির্দেশে সঙ্গে যাওয়া শ্রমিক ও আবদুল আজিজের পরিবারের সদস্যরা বড় বড় হাতুড়ি দিয়ে দেয়াল ভাঙার কাজ শুরু করেন।

প্রথমে দেয়াল ভেঙে আজিজের বাড়ির দুই পাশ থেকে রাস্তায় বের হওয়ার পথ তৈরি করা হয়। দুপুর দেড়টার মধ্যে এই কাজ শেষ হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে বুলডোজার দিয়ে ৫০ শতক জমির ওপর তৈরি পুরো দেয়াল ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।

দেয়াল ভাঙার সময় এমপির লোকজন সেখানে উপস্থিত থাকলেও তারা কেউ বাধা দেননি। দেয়াল ভাঙার সময় গ্রামের শত শত মানুষও সেখানে ভিড় জমান। তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

পাইকগাছার ইউএনও মো. ফকরুল হাসান জানান, আবদুল আজিজের বাড়ির চারপাশে দেয়াল দিয়ে পরিবারটিকে এক প্রকার অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সেই দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিবারটি স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে যাওয়া-আসা করতে পারবে।

আবদুল আজিজ জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে তার ২০ শতক জমির পাশে এমপির ছেলে শেখ মনিরুল ইসলাম ৫০ শতক জমি রেজিস্ট্রি বায়না করে নেন। এরপর ওই জমিসহ তার জমির চারপাশে কোথাও ১০ ফুট আবার কোথাও ১৫ ফুট উঁচু দেয়াল তৈরি করেন। এর ফলে তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তাদেরকে দেয়ালের দুই পাশে মই লাগিয়ে দেওয়াল টপকে যাওয়া-আসা করতে হতো। এছাড়া বাড়ির নারী ও শিশুরা দেয়ালের নিচ দিয়ে তৈরি করা গর্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া-আসা করতো। দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুফল পাননি। অবশেষে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তারা বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেলেন।

আবদুল আজিজের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মো. আসাদ বলেন, দীর্ঘ এক বছর পর তাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। তাদেরকে এখন আর মই দিয়ে কিংবা গর্তের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হবে না। তারা গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তবে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরুল হক ও তার ছেলে শেখ মনিরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সূত্র : সমকাল

আপনার মন্তব্য

আলোচিত