০৫ মে, ২০১৫ ১৫:০২
স্থল সীমান্ত চুক্তি বিলে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। ভারত ও বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের জন্য ভারতীয় সংবিধান সংশোধনের এই বিল বুধবার রাজ্যসভায় ওঠার কথা। সেখানে পাস হয়ে এলে তা লোকসভায় পাস করাতে হবে। স্থলসীমান্ত চুক্তি বিলে আগেই সমর্থন জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে আসামের বিজেপি নেতাদের দাবির মুখে আসামকে বাইরে রেখে বিল আনার পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রের। এতে তীব্র বিরোধিতা করে কংগ্রেস ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ।
বিরোধিতার জেরে স্থলসীমান্ত চুক্তি বিলে যুক্ত করা হল আসামকে । আসামকে যুক্ত করায় বিল পাশে আর কোন জটিলতা থাকল না। অসমকে যুক্ত করায় বিল পাশে মিলবে কংগ্রেসের সমর্থনও, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নামে পরিচিত ১৯৭৪ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে প্রটোকলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।
এর আওতায় বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের সীমান্তে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময় এবং ছয় দশমিক এক কিলোমিটার অমীমাংসিত সীমানা চিহ্নিত হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ ওই চুক্তিতে অনুসমর্থন দিলেও জমি হস্তান্তরে ভারতের সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি আটকে থাকে। ভারতের বিগত কংগ্রেস সরকার কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় রাজ্যসভা ও লোকসভায় তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়।
এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের অংশ হিসাবে ৬৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাটি সমাধানের উদ্যোগ নেন। শুরু থেকে আপত্তি করে আসা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও নান চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন।
মোদী নিজেও বিভিন্ন সময়ে এ চুক্তি কার্যকরে জোর চেষ্টা চালানোর কথা বলেন। কিন্তু আসামে নিজের দলের ভেতর থেকেই তাকে বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়।
বাংলাদেশি ছিটমহলগুলোতে জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার এবং ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার।
আপনার মন্তব্য