১২ মে, ২০১৫ ২০:১১
সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী, ব্লগার ও বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয়কে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৫টায় শাহবাগে মিছিল শেষে সমাপনী বক্তৃতায় মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন- একের পর এক ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সরকার এর কোন সুরাহা করছে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। সরকার কালো চশমা পরে আছে বলেই এসকল হত্যাকারীদের দেখতে পাচ্ছে না।
ডা. ইমরান আরো বলেন- সরকারের কারো বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বললে তার বাড়িতে পুলিশ সাথে সাথে হাজির হয়। অথচ যারা নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে, যারা একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে তাদের পুলিশ ধরতে পারছে না। নারী নিপীড়কদের না ধরে নিপীড়নের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদে নেমেছে পুলিশ তাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করেছে, গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরো বলেন, “আজকে সরকার শুধু উন্নয়নের কথা বলছে। মানুষ যদি ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরেই ফিরেই যেতে না পারে তাহলে এসব ফ্লাইওভার, সেতু, মেট্রোরেলে কে ওঠবে?
ইমরান বলেন- এভাবে যদি আমাদের ওপর হামলা চলতে থাকে, সরকার যদি খুনিদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তবে আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমাদেরই গ্রহণ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন, কিন্তু ট্রেনিং জমা দেন নি। তাদের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে আমরা প্রস্তুত।
এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। মিছিলটি শাহবাগ থেকে টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।
ব্লগার অনন্ত হত্যার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন খান আসাদুজ্জামান মাসুম, জাহানারা নুরী, জীবন জয়ন্ত, শিবলী হাসান, সেলিম রেজাসহ আরো অনেক কর্মী ও সমর্থক। এছাড়া একই দাবিতে আগামীকাল বুধবার বিকেল ৫টায় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
উল্লেখ্য, শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশের পাশেই চলছিলো নারী নিপীড়কদের গ্রেপ্তারের দাবীতে সদ্য ঢাকা সিটি করপোরেশ নির্বাচনে পরাজিত মেয়র পার্থী জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে একটি সমাবেশ। সেই সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয় নীল নকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গণজাগরণ মঞ্চ তাদের সমাবেশের পাশে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করছে।
আপনার মন্তব্য