১৫ মে, ২০১৫ ০০:৫৮
যুক্তি সম্পাদক, ব্লগার ও বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকাণ্ডের তিন দিনেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচালিত তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি তারা নিজেরাও এ মামলার তদন্ত করতে সক্ষম কীনা এ নিয়ে সন্দিহান।
ফলে নবগঠিত সিলেট বিমানবন্দর থানা পুলিশের পক্ষে আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্তের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজেও সেটা স্বীকার করেছেন। এই মামলার তদন্তকাজ আদৌ তাদে হাতে থাকবে কীনা এ নিয়ে তারা নিজেরাই সন্দিহান এমন বক্তব্যও ফুটে ওঠেছে তাদের কথায়।
সিলেট বিমানবন্দর থানা পুলিশের আলোচিত এ মামলার তদন্ত সক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌসুল হোসেন। তবে তিনি দাবি করেন, পুলিশের অন্য তদন্ত সংস্থার সহায়তা নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সিলেটের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র মো. রহমত উল্লাহ অপেক্ষা করছেন তদন্তকাজ অন্য কোন সংস্থাকে দেওয়া হয় কীনা সেটা নিয়ে। তিনি জানান- ‘মামলার তদন্ত পুলিশের অন্য কোনও সংস্থাকে দেওয়া হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন।’
হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের অগ্রগতি কতদূর এমন প্রশ্নের জবাবে জানান- আমরা এখনও কোনও অপরাধী বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করতে পারিনি। এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। যেসব প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যাচ্ছে, তাদের কেউই হত্যাকারীদের ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে পারছেন না। আমরা তাই মনে করি ফেসবুক, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্র ধরেই অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।’
গৌসুল হোসেন নিজেদের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে আরও জানান- আমাদের থানা পুলিশের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পুরো তথ্য নিয়ে তা ধরে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কোনও প্রযুক্তি বা সুবিধা নেই। আমরা কিছু তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পেয়েছি। তবে তা যাচাই করে দেখতে পারছি না। এ কারণে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তা চেয়েছি।
তিনি জানান- ইতোমধ্যে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নুরুল আলমকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মামলার তদন্ত হয়তো আমরা করতে পারব না বা করব না। মামলা ডিবিতে চলে যেতে পারে। আমাদের সঙ্গে যদি পুলিশের সাইবার অপরাধ বা বিশেষায়িত কোনও দলকে যুক্ত করা হয়, তাহলে হয়তো আমরা তদন্ত চালিয়ে যেতে পারব।
থানা পুলিশের এই মামলা তদন্তে সক্ষমতা প্রসঙ্গে মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, থানা পুলিশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে। কারণ থানা পুলিশের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা অপরাধ করে, তাদের চিহ্নিত করার মতো তেমন কোনও ডিভাইস বা প্রযুক্তি নেই।
অনলাইন এক্টিভিস্ট রাজীব রাসেল এ প্রসঙ্গে বলেন- থানা পুলিশের পক্ষে এই মামলার তদন্তকাজ সম্ভব কীনা আমরা জানি না। যদি সম্ভব না হয় তাহলে কেন কালক্ষেপণ করা হচ্ছে? স্থানীয় পুলিশ যদি মনে করে এই মামলা তাদের হাতে থাকবে না তাহলে তাদের সবকিছুতে ঢিলেমি আসাটাই স্বাভাবিক, এই সুযোগে খুনিরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাবে।
থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের অনলাইন সম্পর্কে কোন ধারণাই নাই বলে উল্লেখ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন- থানা পুলিশের পক্ষে চুরি, ডাকাতি কিংবা ছোটখাটো মামলার তদন্তকাজ চালানো সম্ভব হলেও এরকম আলোচিত মামলা তাদের পক্ষে সম্ভব না, এসব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার সক্ষমতার উপর অনেকটা নির্ভর করে।
অনন্ত বিজয় দাশের পরিবার সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসনের অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, বাসায়ও গিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা খুনিদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোন কিছু না জানিয়ে কেবল স্বান্তনা আর আশ্বাসের বাণি শুনিয়ে গেছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাসা থেকে অফিস যাওয়া পথে সুবিদবাজার বনকলাপাড়ায় জঙ্গি মৌলবাদীদের চাপাতির আঘাতে খুন হন যুক্তি সম্পাদক, ব্লগার ও বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাশ। ঘটনার রাতে অনন্তের ভাই রত্নেশ্বর বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
অনন্ত বিজয় দাশ লেখালেখির কারণে জঙ্গি মৌলবাদীদের হুমকি পেয়ে আসছিলেন।
আপনার মন্তব্য