নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ মে, ২০১৫ ২২:৩৫

‘জাফর ইকবালের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ : ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে উদ্দেশ করে হুমকি, কটূক্তির পর এবার তাঁকে সিলেটবিদ্বেষী ও ব্লগার অভিহিত করে তাঁকে সিলেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুমকি দিয়েছে ‘সিলেটবাসী’ ব্যানারে স্থানীয় আওয়ামিলীগ ও তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতারা। 

শনিবার সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামিলীগ নেতাদের নেতৃত্বে এ মিছিল ও মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে স্লোগান দেওয়া হয় ‘জাফর ইকবালের আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও। মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন মহানগর আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন।

এর আগে ৯মে ফেঞ্চুগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামিলীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস ঘোষণা দিয়েছিলেন- তাঁর ক্ষমতা থাকলে তিনি জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে নিয়ে এসে চাবুক মারতেন।

আওয়ামিলীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী ও সিলেট আওয়ামিলীগের জাফর ইকবালকে নিয়ে কটুক্তি, হুমকির প্রতিবাদে মূখর সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক। অনেকেই তাদের স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জাফর ইকবালকে উদ্দেশ করে ধৃষ্টতাপূর্ণ এসব বক্তব্য ও হুমকির সমালোচনা করছেন।

লেখক অনন্য আজাদ তাঁর টাইমলাইনে লিখেন- একের পর এক মুক্তমনা লেখকদের হত্যা করা হচ্ছে। রাজাকারের পুত্র যখন সিলেটে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য হতে পারে তখন বুঝতে বাকি থাকে না মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে জন্য তিনি এ পদটি লাভ করেন নি বরং সিলেটের জামাত সমর্থিত মৌলবাদীরাই তাকে টিকিয়ে রেখেছে এবং ভেতরে ঝাঁপটি মেরে তারা এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং সম্ভবত কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত সময়ের সাহসী লেখকদের হত্যাকাণ্ডের পরও প্রশাসন গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে না। ইসলামি মৌলবাদীদের সাথে আওয়ামীলীগের গোপনে নয় বরং প্রকাশ্যে এ-ধরণের সমঝোতা ভবিষ্যতে নিজেদের পায়ে নিজের কুড়াল মারার মতই হবে। যেমন ১৯৯৬ সালে জামাতকে পাশে বসিয়ে আন্দোলন করার ভুলটি এখনও আওয়ামীলীগদের লজ্জার কারণ। খেলাফতে মজলিশ ও ওলামা লীগের মত মৌলবাদীদের যুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধদের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই করা হয়েছিল।গতকাল ধর্মব্যবসায়ী আহমদ শফীর সাথে সাক্ষাত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র।

ব্লগার মানেই নাস্তিক প্রতিষ্ঠিত করেছিল হেফাজতে ইসলাম। ব্লগারদের গ্রেপ্তার করেছিল আওয়ামীলীগ সরকার। এবং আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে একের পর এক মুক্তমনা লেখক ব্লগার হত্যা করে সর্বশেষ মৌন সমর্থন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র। নিজেদের অক্ষমতাকে ঢাকার জন্য যতসব কৌশল আছে তার একটি ‘চিকন রশির ওপর দিয়ে হাঁটছি’।

সাংবাদিক মোরসালিন মিজান তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন- কয়েস নামে বাংলাদেশে কোন এমপি আছে। প্রথম জানলাম। নিশ্চয়ই বিরাট অন্যায় করে ফেলছি। মাননীয় গরু মার্কা, আমাকে প্লিজ ক্ষমা করবেন।

জালাল উদ্দিন রুমী লিখেন- ফেবুলীগ এখন জাফর ইকবাল স্যার কে পড়াশুনার ছবক দেয় । কখন যে, সিলেটের সাংসদের মত প্রকাশ্যে চাবুক মারার ঘোষণা দিয়ে বসে কে জানে !!!

আলিম আল রাজী লিখেন- একটু আগে মাইকিং শুনলাম - নাস্তিক জাফর ইকবালের কালো হাত ভেংগে দাও, গুড়িয়ে দাও। আগামীকাল চন্ডিপুল এলাকায় নাস্তিক জাফরের বিপক্ষে জনসভা। দলে দলে যোগ দিন।
২.
আমি ধরেই নিয়েছি, জাফর ইকবাল স্যারের স্বাভাবিক মৃত্যু হবেনা। শান্তির ধর্মের তরবারির আঘাতেই তার মৃত্যু হবে।
৩.
ইসলাম শান্তির ধর্ম, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়ীক দেশ।

দেবজ্যোতি দেবু লিখেছেন- জাফর ইকবাল স্যারকে "ব্লগার" আখ্যায়িত করে আস্তানা ভেঙ্গে দেবার কথা বলে আওয়ামিলীগ প্রমাণ করে দিল মৌলবাদিরা ব্লগারদের যে চোখে দেখে তারাও ঠিক একই ভাবে ব্লগারদের বিচার করে। তারা এতোটাই গন্ড মূর্খ যে স্যার যে ব্লগ লিখেন না সেটাও তারা জানে না।

যারা ব্লগারদের ঘৃণা করের তাদের কাছে ব্লগার হত্যার বিচার চাওয়া এখন হাস্যকরই বটে। তেঁতুলে যে এতো মধু আছে সেটা যদি আগে জানতাম...

শুভ মাইকেল ডি কস্তা লিখেন- জাফর স্যারকে লেখক ও শিক্ষাবিদ আখ্যায়িত না করে ব্লগার আখ্যায়িত করার পর বুঝলাম; হেফাজত ও লীগের পোলাপাইনের বুদ্ধি "ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালানোর" মাঝে সীমাবদ্ধ।

উভয় বলতে চায়, ব্লগার মানে নাস্তিক এবং তাদের কর্তন কর।  মৌলবাদীদের পরবর্তী টার্গেট জাফর স্যার হলে অবাক হবো না।

সুদীপ্ত সুজয় লিখেন- শেষ পর্যন্ত সিলেট আওয়ামি লিগও ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানো শুরু করল! জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত-আওয়ামি লিগ মিলেমিশে একাকার। দুঃখিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনার সংগঠনের সিলেট শাখার প্রতি চরম নিন্দা জানালাম। আমি বিশ্বাস করি ছাগলের পাল আওয়ামি লিগের বেশে থাকলেও তার আচরণ বদলায় না!

মাকসুদুর রশীদ লিখেন- ব্লগার উপাধি না থাকলে ইসলাম ধর্ম মুতাবেক কতল করা জায়েজ হয়না। ধর্মালীগারদের জাফর স্যারের পাশে 'ব্লগার' লাগানোর কারনটা তাই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। শ্রদ্ধেয় জাফর স্যারকে সাবধানে থাকা উচিৎ! প্রশাসন এখন আর তার নিরাপত্তা দিবেনা। ধর্মাবালদের পাশাপাশি ধর্মালীগাররাও এখন স্যারের শত্রু।

লিটন দেব জয় লিখেন- শিক্ষক, লেখক, গবেষক বলে যাঁকে মাথায় তুলে রাখার কথা সেই জাফর ইকবাল স্যারের বিরোদ্ধেই মিছিল করছে সিলেট আওয়ামীলীগের লোকজন! এমনকি তারা স্যারকে "ব্লগার" বলেও উল্লেখ করে!

ছাগুরা সব সময় তাঁর বিরোদ্ধেই অবস্থান নেয়। কারণটা জানা আছে। কিন্তু প্রগতির বুলি আওড়ানো ভং ধরা কিছু মানুষ যখন নষ্ট রাজনীতির জন্য স্যারকে অপমান করতে চায় তখন বিস্মিত হই! উপলব্দি করি, রাজনীতি আসলেই নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে!!!

হে রাজনীতি তুমি বড়ই অজ্ঞান, গাধাদেরও দিয়েছ নেতার সম্মান!!!

আপনার মন্তব্য

আলোচিত