সিলেটটুডে ডেস্ক

১৯ মে, ২০১৫ ১৪:৩১

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণে প্রধান বাধা আমলাতন্ত্রঃ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন বাস্তবায়নে ‘স্বার্থান্বেষী আমলাতান্ত্রিক মহল বিশেষের নানাবিধ চক্রান্ত’ বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতারা।

আগামী ৩০ মে ঢাকাসহ সারাদেশে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়ন ও মহলবিশেষের চক্রান্তমূলক পদক্ষেপের প্রতিবাদে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘২০০১ সালের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ৬ বার সংশোধনী আইন পার্লামেন্টে গৃহীত হবার পর তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু গত দু’বছরে আমরা যেখানে আশা করেছিলাম ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠী ৬ দশকের অব্যাহত যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে, অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা ফিরে পাবে, সেক্ষেত্রে তা এখন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বার্থান্বেষী মহলবিশেষের নানাবিধ চক্রান্ত্রের কারণে আইনটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও তা হচ্ছে না। গণবিরোধী আমলাচক্র তা নস্যাতের জন্য কুটিল ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি ৮ দফা দাবি জানান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো-
আইনটি দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করে ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীকে পরিত্রাণ দেয়া, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় চক্রান্ত নস্যাৎ করে উদ্ভূত সমস্যাবলী দ্রুত নিরসন করা, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত পরিপত্রে উল্লেখিত ভোগদখলকারীদের মালিকানার সমর্থনে বৈধ প্রমাণপত্র উপস্থাপনের সময় ১ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর বৃদ্ধি করা, তফশীলভুক্ত জমির খাজনা আদায় ও নামজারীর ক্ষেত্রে প্রশাসনের হয়রানী ও টালবাহানা বন্ধ করা, ভূমি অফিসসহ প্রশাসন সংশ্লিষ্ট নানা স্তরে অব্যাহত ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আবেদন নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোকে আরো সক্রিয় ও সচল করা এবং আইনে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে তা নিষ্পত্তিতে বাধ্য করা।

এছাড়া অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী প্রাপ্ত সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত বিধিমালা, ট্রাইব্যুনালের রায় ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে ঢালাও আপিল বন্ধ করা এবং আপীল ট্রাইব্যুনালের রায় ও ডিক্রী দ্রুত বাস্তবায়ন করার দাবিও যুক্ত করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ‘নিজেরাই করি’- এর খুশি কবির বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক চক্রান্তের যাঁতাকলে পড়ে আইনটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কারণ এ সমস্যা যতোদিন থাকবে ততোদিন তাদের পকেটে টাকা আসবে। আর এদেশে দখল করার সংস্কৃতিতো আছেই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের অজর রায়, ড. নীমচন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত