২৪ মে, ২০১৫ ১৮:০৯
সিলেট-৩ আসনের আওয়ামিলীগ দলীয় এমপি মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েসের পক্ষে ‘সিলেটবাসী’ ব্যানারে সিলেট আওয়ামিলীগের জেলা ও মহানগর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ‘ব্লগার’ ও ‘সিলেটবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার পর সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠার প্রেক্ষাপটে পর্যায়ক্রমে নিজের দল ভারী করছেন সাংসদ কয়েস।
সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামিলীগ, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও সে মিছিলে আওয়ামিলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র সাংসদ কয়েসের জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে নিয়ে এসে চাবুক মারার ইচ্ছাপোষণ ব্যাপক নিন্দা কুড়ায়।
জেলা আওয়ামিলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং মহানগর আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমেদ জাফর ইকবাল বিদ্বেষী এই মিছিলে অংশ নেওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন আওয়ামিলীগের অনেক নেতাই।
দলের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকার সমালোচনা করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামিলীগের সম্পাদকপদধারী এক নেতা বলেন- আওয়ামিলীগের দূর্দিনে জাফর ইকবাল বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হন, অনেক বুদ্ধিজীবিদের সেভাবে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না।
এ প্রসঙ্গে তিনি ওয়ান-ইলেভেনকালীন সময়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পর জাফর ইকবালের একটা লেখার প্রসঙ্গ এনে বলেন জাফর ইকবাল সে সময়ে লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শকে জেলখানায় বন্দী রাখা যায় না। তিনি দুঃখ করে বলেন দলের নেতারা বিতর্কিত এক এমপির পক্ষ নিয়ে আসলে দলেরই ক্ষতি করেছেন।
এদিকে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়া মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী এমপি তাঁর এলাকা ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেটে নিজের দল ভারী করতে ওঠেপড়ে লেগেছেন। প্রায় প্রতিদিনই তাঁর এলাকার বিভিন্ন সংগঠন জাফর ইকবাল ইস্যুতে এমপি কয়েসের পক্ষে আছে বলে বিবৃতি দিচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি ধর্মকেও কাজে লাগাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সাংসদ কয়েস অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিতের সর্বশেষ সফরে সার্বক্ষণিক তাঁর সঙ্গী ছিলেন। অর্থমন্ত্রীর সব কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি অনেকের মধ্যে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাপক সমালোচনা ও কানাষুষা শুরু হয় অনুষ্ঠানস্থলেই। অনেকে আবার একে এমপি কয়েসের অর্থমন্ত্রীর আনুকূল্য পাওয়ার একটা উপায় হিসেবেও মন্তব্য করেছেন।
মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী এমপি কর্তৃক জাফর ইকবালকে হুমকি, কটুক্তির দুই সপ্তাহ পরও সরগরম সোশ্যাল সাইট ফেসবুক। অনলাইনে আওয়ামি-অনুসারিদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বেশীরভাগই এই ইস্যুতে জাফর ইকবালের পক্ষ নিয়েছেন এবং অবিলম্বে এমপি কয়েসকে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই এ প্রসঙ্গে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে অনলাইনে আওয়ামিলীগ দলীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পীর স্বামীর এক পোস্ট ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দা কুড়িয়েছে। এমপি নিজে সে পোস্টে উপস্থিত না
থাকলেও পোস্টের বিরোধিতাকারীদের প্রতি বিষোদগার করে উল্লেখ করেছেন তাঁর ছবি ব্যবহার করে মিথ্যাচার করা হচ্ছে এবং বলেছেন- ‘আমি আমার সততা,নিষ্ঠা নিয়ে চলছি এবং চলবো- পূনর্বার উত্ত্যক্ত করলে বিষয়টি সহজভাবে গ্রহণ করবোনা’।
এডভোকেট ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পীর স্বামী শেখ রফিক জাফর ইকবালের প্রতি ইঙ্গিত করে তাঁকে সিআইএ গুপ্তচর আখ্যা দিয়ে তার ফেসবুকে লিখেন-
নানায় আছিল রাজাকার আর দুই ভাই সক্ষম হয়েও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নাই, যুদ্ধাপরাধীর বিচার চান কিন্তু ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষী দেন না। নাস্তিকদের উৎসাহ দিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীকে ক্ষেপিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছেন এতো দেখি সিআইএ গুপ্তচরবৃত্তি।
এ নিয়ে ব্যাপক সরগরম সোশ্যাল সাইট ফেসবুক।
উল্লেখ্য, ৯ মে ফেঞ্চুগঞ্জের স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবি জাফর ইকবালকে ‘সিলেটবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে বলেন- তাঁর ক্ষমতা থাকলে তিনি জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে ধরে এনে চাবুক মারতেন।
এর এক সপ্তাহ পর ১৬ মে ‘সিলেটবাসী’ ব্যানারে এক মিছিল থেকে জাফর ইকবালকে সিলেটবিদ্বেষী ও ব্লগার আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়- ‘জাফর ইকবালের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ এবং মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে জাফর ইকবালকে সিলেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করারও হুমকি দেওয়া হয়।
আপনার মন্তব্য