ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ মে, ২০১৫ ০০:৩৪

মোদীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন মমতা, তিস্তা জট খুলছে!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরসঙ্গী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হচ্ছেন কীনা- এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য জানাচ্ছিল ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো। বিশ্বস্ত কোন সূত্র মুখ না খুললেও অবশেষে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে মোদির সঙ্গে মমতাও আসছেন।

বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে মোদীর সফরকালে এমন খবর নিশ্চিত করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। মোদী-মমতার সফর সে আভাষই দিচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথম সফরে আগামী ৬ জুন আসতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। তার এই সফর নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশেই ব্যাপক আলোচনা চলছে।

চার বছর আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরসঙ্গীর তালিকা থেকে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সব প্রস্তুতি থাকার পরও তার আপত্তির কারণে তখন আটকে যায় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের চুক্তি সই, যা এখনও হয়নি।

সাবেক কংগ্রেস নেত্রী মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস এক সময়ে বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধলেও এখন তাদের সম্পর্ক অনেকটাই সাপে-নেউলে। বিজেপি নেতা মোদীর কঠোর সমালোচক তিনি। এসব মিলিয়ে মমতা ঢাকা সফরে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আসছেন না বলে ভারতের গণমাধ্যমে কয়েকদিন আগেই খবর প্রকাশ হয়েছিল। তবে সফরের এক সপ্তাহ আগে তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা পার্থ নিশ্চিত করলেন, তার মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবেশী বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গী হচ্ছেন।

“মুখ্যমন্ত্রী আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশে যাচ্ছেন। আমরা আশা করি, এই সফর দুই বাংলার (বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) সম্প্রীতি আরও গাঢ় করবে, সম্পর্ক দৃঢ় করবে দুই দেশেরও।”

২০১১ সালে মনমোহনের সফর এড়িয়ে গেলেও এই বছরই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তখন বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান তিনি।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দুই বাংলার মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এক ভাষায় কথা বলি আমরা, দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতাও একজন (কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের স্বার্থ উদ্ধার হবে, পশ্চিমবঙ্গেরও।”

বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের সব বাধা কাটিয়ে ওঠার পর নরেন্দ্র মোদীর এই সফর হচ্ছে। এক সময় বিরোধিতা থাকলেও বিজেপি সরকারের এই উদ্যোগে শেষে সমর্থন ছিল মমতার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোদী এই সফরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গেও তার সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সফরে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে একটি সীমান্ত হাটও উদ্বোধন করবেন নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা।

এদিকে, তিস্তার পানিবন্টন বিষয়ে মমতার অবস্থান পরিষ্কার না করলেও কেন্দ্র ইতোমধ্যেই তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত