সিলেটটুডে ডেস্ক

০১ জুন, ২০১৫ ১২:৫৯

প্রেমিকা হত্যার দায়ে প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাওদা হত্যার দায়ে প্রেমিক রাসেলকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত।

আজ সোমবার বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. গিয়াস উদ্দিন কাবুল জানান, ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় নগরীর ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড রোডে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাওদা আক্তারকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করেন প্রেমিক রাসেল।

ওই দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আকাশ পথে ঢাকা নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাওদা।

এ ঘটনায় নিহত সাওদার মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাসেলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পালিয়ে যাওয়া রাসেলকে ঘটনার এক সপ্তাহ পর চট্টগ্রাম মহানগর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল হত্যাকারী রাসেলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগ) দাখিল করেন।

সম্প্রতি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সোমবার রায় প্রকাশের দিন ধার্য্য করেন।

আদালত ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাসেলকে  মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

তিনি জানান, আপিল করতে চাইলে আগামী সাতদিনের মধ্যে আসামিপক্ষ আদালতে আপিল করতে পারবেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না জানান, এ রায় মনোপুত না হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে সাওদা ও রাসেল একই উপজেলার হারুন মাতব্বরের ছেলে।
স্কুলজীবন থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো।বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে সাওদা রাসেলকে এড়িয়ে চলা শুরু করলে ক্ষোভে-দুঃখে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে গ্রেফতারের পর পুলিশকে জানায় রাসেল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত