নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ জুন, ২০২৬ ১৬:২৫

মাজারের স্বচ্ছতা: কমিটিতে আরিফের না থাকা নিয়ে যা বললেন মুক্তাদির

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে শুক্রবার ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

তবে এই কমিটিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নাম না থাকা নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়। এ বিষয়ে শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে।

মুক্তাদিরের দাবিতে, মাজার ব্যবস্থাপনার কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে রাখা য়িনি। প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকরা বলেন, মাজারের স্বচ্ছতার জন্য গঠিত কমিটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। বিশেষত প্রবাসীকল্যান মন্ত্রীকে না রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এ ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কমিটিটা যেভাবে হয়েছে, এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে কাউকে রাখা হয়নি, যেমন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মহোদয়, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহোদয়, জেলা পরিষরেদর প্রশাসক মহোদয়, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিসিসহ সংশ্লিস্টরা রয়েছে। তাদের সাথে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আমি আছি।

এরপর মন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, এর থেকে ভালো ব্যবস্থা আর কী করা যায়, আপনারাই ভালো বলুন। আমরা চেয়েছি, একটি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে স্থায়ী একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেতে, এটিই আমাদের উদ্দেশ্য।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ত্রিশ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। কীভাবে এই দান-দক্ষিণার ব্যবস্থাপনা হবে তার একটি প্রক্রিয়া খুঁজে বের করবে এই কমিটি।

তিনি জানান, এই ত্রিশ দিনের মধ্যে যে-ই টাকা আসবে তা এই কমিটি প্রকাশ্যে গনণা হবে। এই টাকা ডিসি পরিচালিত একাউন্টে থাকবে।

শুক্রবার সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো: জিল্‌লুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি। কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) পিংকি সাহা।

এরআগে গত বুধবার মালয়েশিয়া সফর শেষে সিলেটে এসে মাজার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছিলেন, “এ ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরাও মাজারে স্বচ্ছতা আনতে চাই। শীঘ্রই এ ব্যাপারে সিলেটের সকল এমপি, জনপ্রতিনিধিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করে মাজারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

আরিফুল হকের এমন বক্তব্যের মাত্র দুদিন পরই শুক্রবার সকালে সিলেটের সার্কিট হাউজে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেই বৈঠকেই মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা আনার প্রক্রিয়া ঠিক করতে ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত