নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন, ২০১৫ ০৩:০২

মোদির আগেই মমতা

অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল তাঁকে নিয়ে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরসঙ্গী হচ্ছেন, কী না হচ্ছেন এ নিয়ে বেশ প্রশ্ন ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত মোদির আগেই ঢাকায় পৌঁছালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৮টা ৩১ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই ২০৩ নম্বর ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন ছয়জন মন্ত্রী ও রাজ্যসভার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সঙ্গে রয়েছেন বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মীও।

কালো পাড়ের সাদা শাড়ি পরিহিতা মমতা ব্যানার্জি বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর পরেই সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ করে মমতা বলেন, তিন মাস পর আবার দেখা হল। আপনারা সবাই ভালো আছেন তো? এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি খোঁজখবর নেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হোটেল রেডিসনের উদ্দেশে তার গাড়িবহর ছেড়ে যায়। তিনি তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে এ হোটেলেই অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পূর্বে কলকাতায় বিধানসভার লবিতে শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাচ্ছি। একটা ঐতিহাসিক চুক্তির সাক্ষী হতে যাচ্ছি। স্বাধীনতার (ভারতের) পর ৬৬ বছর ধরে যে সমস্যার সমাধান হয়নি, সেই ছিটমহলের সমস্যা মিটবে। বাংলাদেশের মানুষ এ দেশে আসবেন। এ দেশের মানুষও সে দেশে যাবেন। দু’দেশের পক্ষে এটা ভালো হবে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘যেসব মানুষ ভারতে চলে আসতে চান, তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। প্রথমে সাময়িকভাবে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। পরে তাদের পাকাপাকি পুনর্বাসনের জন্য ধাপে ধাপে কেন্দ্র থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা মিলবে।’

তিনি বলেন, ‘পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তা জোর পাবে বর্ষা কেটে গেলে পুজোর পরে।’ বাস চলাচল এবং স্থলসীমান্ত চুক্তি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় দু’দেশের সুন্দরবন অঞ্চলে বিলাসবহুল ক্রুজ চলাচলের সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, দুই বাংলার সুন্দরবনের মধ্যে জলপথ পর্যটন চালু হলে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। এ জন্য ১০টি বিলাসবহুল জাহাজ কেনা হচ্ছে।

কলকাতার সঙ্গে ঢাকার সুসম্পর্ক প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘আমরা নিউ টাউনের মোম জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মোমের মূর্তি রাখব। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত একটি চেয়ার করার কথা আগেই ঘোষণা করেছি। এবার আসানসোলের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কালচারাল স্টাডি সেন্টার হবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত