০৬ জুন, ২০১৫ ১৬:১৯
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিলেন নরেন্দ্র মোদী।
শনিবার দুপুরের পর সোনারগাঁও হোটেলে এই বৈঠক শেষে দুজন একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে রওনা হয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী শনিবার ঢাকায় নামলেও একদিন আগেই এসে পৌঁছান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মতভেদের মধ্যে মমতা ওঠেন আলাদাভাবে রেডিসন হোটেলে।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতার মধ্যে মোদীর সঙ্গে মমতার কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে তিস্তা চুক্তি যে এই দফায় হচ্ছে না, তা আগেই দুই তরফে জানানো হয়েছে।
মোদীর সঙ্গে বৈঠকের আগে মমতা এক টুইটে বলেছেন, “স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে আমার পক্ষ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকও সই হবে বৈঠকে।
১৯৭৩ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকল কার্যকরে সব বাধা দূর হওয়ার পরই ঢাকা এলেন নরেন্দ্র মোদী।
সকালে ঢাকায় নামার পর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শনের পর হোটেলে ফেরেন মোদী। সেখানেই যান মমতা।
চার বছর আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরসঙ্গীর তালিকা থেকে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন মমতা।
সব প্রস্তুতি থাকার পরও তার আপত্তির কারণে তখন আটকে যায় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের চুক্তি সই, যা এখনও হয়নি।
সাবেক কংগ্রেস নেত্রী মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস এক সময়ে বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধলেও এখন তাদের সম্পর্ক অনেকটাই সাপে-নেউলে। বিজেপি নেতা মোদীর কঠোর সমালোচক তিনি।
এসব মিলিয়ে মমতা ঢাকা সফরে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আসছেন না বলে ভারতের গণমাধ্যমে কয়েকদিন আগেই খবর প্রকাশ হয়েছিল।
‘বাংলাদেশ সফরে মোদী তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে আশ্বাস দিয়ে মমতাকে ঢাকা সফরে রাজি করিয়েছেন’ বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়।
২০১১ সালে মনমোহনের সফর এড়িয়ে গেলেও এই বছরই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তখন বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান তিনি।
তিস্তা চুক্তির জট খোলার আশা ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হলেও এ বিষয়ে মমতার স্পষ্ট বক্তব্য এখনও আসেনি।
তবে ভবিষ্যতে এই চুক্তি হবে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সকালে সাংবাদিকদের বলেন, তারা এটা নিয়ে কাজ করছেন এবং “সব কিছু রাতারাতি হয় না”।
তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা চলছে কূটনৈতিক পর্যায়ে।
আপনার মন্তব্য