১৪ জুন, ২০১৫ ০১:৫৬
ভারতে বাজার হারিয়ে এখন বাংলাদেশে ভর করে ক্ষতি কাটাতে উঠেপড়ে লেগেছে ম্যাগি। এ লক্ষ্যে এর প্রস্তুতকারক বহুজাতিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পগোষ্ঠী নেসলে শুরু করেছে ব্যাপকভিত্তিক প্রচারণা। তবু ভোক্তা টানতে পারছে না ম্যাগি নুডলসের নেসলে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বাজারে যেসব ম্যাগি পাওয়া যায় তার মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত উভয়ই রয়েছে। সেকারণেই ভারতের বাজারে যে ম্যাগি বিক্রি করা যাচ্ছে না সেগুলোই বাংলাদেশে চালাতে এত তোড়জোর, এমন সন্দেহও ঘনীভূত হচ্ছে জনমনে।
এদিকে, নুডলসে অতিরিক্ত সীসা থাকায় ভারতের বাজার থেকে ম্যাগি কেবল তুলেই নেওয়া হয়নি নেসলের কাছে ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাংলাদেশে বিএসটিআই’র পক্ষ থেকে এমন কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এমনকি তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) সংবাদসম্মেলন করে ম্যাগির পক্ষে সাফাই গেয়ে এর ভালোত্বের সনদ দেওয়ায় সন্দেহ বেড়েছে।
আকর্ষণীয় মূল্য ছাড় আর একটার সঙ্গে আরেকটা ফ্রি অফার দিয়ে চলেছে ম্যাগি নুডলসের নেসলে বাংলাদেশ। ৬৬ টাকার প্যাকের দাম কমিয়ে ৫০ টাকা এবং ১৩০ টাকার প্যাকের দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ ও নেসলে কনফ্লেক্সের সঙ্গে দুটি মিনিপ্যাক ফ্রি দেয়া সত্ত্বেও দোকানিরা আর আগের মতো বড় অর্ডার দিচ্ছেন না।
একইভাবে দেশে বিপণন কর্মকাণ্ডে জড়িত শীর্ষ ও মাঝারি সারির সুপার শপ থেকে শুরু করে বাজারকেন্দ্রিক দোকান ও গলির মোড়ের মুদি দোকানের বিক্রেতারাও আগের মতো ম্যাগি নুডলস তুলছেন না। এমন পরিস্থিতিতে হতাশ বাংলাদেশে ম্যাগি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নেসলে বাংলাদেশের বিক্রয়কর্মীরাও। এদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,
জানা গেছে, এই নুডলসে ক্ষতিকর সিসার উপাদান আছে- ভারতীয় আদালত কর্তৃক এমন তথ্য প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই দেশের বাজারে ম্যাগির চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে। গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এ অচলাবস্থা চলছে বলে বিক্রেতারা দাবি করছেন। এর ফলে দেশের বাজারে ম্যাগি নুডলসের শক্তিশালী ভিত ক্রমেই নড়বড়ে হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিক্রেতারা দেশে ম্যাগির মার্কেট শেয়ারে ধস নামারও আশংকা করছেন।
এদিকে ম্যাগিতে সিসা নেই- মান নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের (বিএসটিআই) এমন দাবির প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না ক্রেতারা। সংশ্লিষ্ট ক্রেতারা বলছেন, খাদ্যপণ্যের মান নির্ধারণ নিয়ে বিএসটিআইর অবস্থান অতি প্রশ্নবিদ্ধ। এ প্রতিষ্ঠানটি জনগণের স্বার্থরক্ষা না করে অজ্ঞাত কারণে কোম্পানির স্বার্থরক্ষার মিশনে নেমেছে। তাই একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে ম্যাগির গুটিকয়েক নমুনা পরীক্ষা করেই ফলাও করে প্রচার করছেন এতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই।
অন্যদিকে বিএসটিআইর সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এ পণ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও এ সিদ্ধান্তে ত্বরিত কোনো ফলাফল আজও পাওয়া যায়নি। ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এখন বিএসটিআইর পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিও কেউ কেউ সংশয়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন।
সরেজমিন সিলেটের স্বপ্ন, রিফাত এন্ড কোং, ফিজা, রাজমহল, স্বাদ এবং বন্দরবাজার-আম্বরখানার ক্ষুদ্র ও মাঝারি বেশ কিছু মুদি দোকান পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য এসব সুপারশপ ও মুদি দোকানগুলোতে বিক্রির জন্য উঠানো সব ম্যাগির প্যাকই বাংলাদেশের তৈরি বলে দাবি করা হয়, ভারত থেকে আমদানিকৃত কোন ম্যাগি নুডলস তাদের দোকানে নেই বলে দাবি করা হয়।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, দেশে ম্যাগি তৈরি হলেও এর বেশির ভাগ কাঁচামাল ভারত থেকে আনা হয়। এছাড়া দেশে ম্যাগির বড় বাজার রয়েছে। এটি একটি ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড। তাই এর চাহিদার কত অংশ দেশে তৈরি হয় কিংবা কী পরিমাণ আমদানি হয় এর সত্যতা যাচাইয়ের ওপরই নির্ভর করছে দেশে ম্যাগি আতংকের ব্যাপকতা কতটুকু হবে।
বন্দরবাজারের এক দোকানী সিদ্দিক আলম জানান- ম্যাগি নুডলসের বিক্রি ভালো যাচ্ছে না। এটা আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে গেছে। বিপরিতে নুডলস ভোক্তারা অনান্য নুডলস কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণার কারণে এমন হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য