০২ জুলাই, ২০১৫ ২৩:০৬
নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ক্ষমতাসীন আওয়ামিলীগ সরকারের টার্গেট ছিল ২০২১ এর মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করা।
লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগেই পাওয়া এ স্বীকৃতির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন আগামি তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে, বিএনপি বলছে বাংলাদেশের এ অগ্রগতিতে সরকারের কোন সাফল্য নেই।
বাংলাদেশের এ অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘উচ্চ-মধ্যম’ আয়ের দেশে পরিণত করার প্রত্যয় জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ কখনো ‘নিম্নতে’ থাকতে চায় না, সবসময় ‘উচ্চতে’ উঠতে চায়।
তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রার আগেই আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘মধ্যম আয়ের দেশে’ পরিণত করতে যা যা দরকার, তার সবই সরকার করবে।
বিশ্ব ব্যাংক তাদের সূচকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করায় সন্তোষ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে সহায়তা পেয়ে আসছিল, তা আরও কয়েক বছর পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী তিনি।
এদিকে বাংলাদেশের এ অনন্ত সাফল্যে সরকারের ধন্যবাদ পাওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, এখানে জনগণের প্রচেষ্টা ছিল। আমরা মনে করি, এটা জনগণের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল।
বিশ্ব ব্যাংক মাথাপিছু আয়ের হিসাবে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে নিজেদের সূচকে বাংলাদেশকে এক ধাপ এগিয়ে আনা হয়েছে বলে বুধবার (১ জুলাই) বৈশ্বিক সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে কেনিয়া, মিয়ানমার ও তাজিকিস্তানও নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে বলে বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে। এই দেশগুলোর মানুষের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ১ হাজার ২৪ ডলার থেকে ৪১২৫ ডলার বলে সংস্থাটির হিসাব।
জাতিসংঘ মানব উন্নয়ন সূচকসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানদণ্ডে বাংলাদেশের অগ্রগতির মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সূচকে এই উত্তরণ দেখা দিল।
গত ৬ বছর ধরে ৬ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখায় বিশ্ব অঙ্গনে প্রশংসিত বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ সরকারের হিসেবে মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৩১৪ ডলার।
কয়েক মাস আগে এই তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, মাথাপিছু আয়ের এই হিসাবে (নমিনাল) বাংলাদেশের অর্থনীতি পৃথিবীতে ৫৮তম। “আর ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) আমাদের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ১৯০ ডলার। ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে আমাদের অর্থনীতি পৃথিবীর ৩৬তম।”
সংস্থাটির সূচকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশ থেকে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে মঙ্গোলিয়া ও প্যারাগুয়ে। তাদের মাথাপিছু আয় ৪১২৬ ডলার থেকে ১২৭৩৫ ডলার। এক বছরে সবচেয়ে বেশি ১৩ ধাপ এগিয়েছে মালদ্বীপ, তারপরই আট ধাপ অগ্রগতি ঘটেছে মঙ্গোলিয়ার।
মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে সূচকে সবচেয়ে নিচের দেশটি হল মালাবি, তাদের মাথাপিছু আয় ২৫০ ডলার। আর মাথাপিছু ১ লাখ ডলার নিয়ে সবার উপরে আছে ইউরোপের ছোট্ট দেশ মোনাকো।
বিশ্ব ব্যাংক সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, সেসেলেস ও ভেনেজুয়েলাকে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশের কাতারে নিয়েছে। তাদের মাথাপিছু আয় ১২৭৩৬ ডলারের বেশি।
প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, “আমাদের সর্বশেষ ডেটা দেখাচ্ছে যে বিশ্বের অর্থনৈতিক ভূগোল অনেক বদলাচ্ছে।
“১৯৯৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫৬.১ শতাংশের (৩০১ কোটি) বাস ছিল ৬৪টি নিম্ন আয়ের দেশে। ২০১৪ সালে এসে এটা ৮ শতাংশ কমেছে। এখন ৩১টি দেশের ৬১ কোটি মানুষের বাস নিম্ন আয়ের দেশে।
আপনার মন্তব্য