সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ জুলাই, ২০১৫ ০১:৫৬

শিক্ষা সচিবের কর্তৃত্ব খর্ব করলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের কর্তৃত্ব খর্ব করে মন্ত্রণালয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছেন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে জটিলতার পর শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেন।এর মাধ্যমে সচিব কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে পড়লেন।

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা জারি করেন সচিব। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তির প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করায় গোটা প্রক্রিয়া অচল হয়ে পড়লে ওই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়।

মঙ্গলবার জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রীকে না জানিয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাই। যদিও মন্ত্রণালয়গুলোতে সচিব পর্যায়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে থাকে। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত উপ-সচিব পর্যায়েও চূড়ান্ত হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর স্বাক্ষরসহ মন্ত্রণালয়ে জারি করা মঙ্গলবারের নির্দেশনার এক জায়গায় বলা হয়েছে, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার সার্বিক বিষয়ে কথা হয়েছে, তিনিই ডেকে বলে দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সকল সিদ্ধান্ত মন্ত্রী চূড়ান্ত করবেন। আমাকে না জানিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।”

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নিয়ে একক সিদ্ধান্তে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রীর বিরাগভাজন হন শিক্ষা সচিব।

সচিবের জারিকৃত কয়েকটি পরিপত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে বির্তকের সৃষ্টি হয়। একটি পরিপত্র স্থগিতও করেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকদের পদোন্নতি, বদলি ও সংযুক্তি দেওয়ার বিষয়েও সচিব তার নিজের কর্তৃত্ব খাটাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসএসসি এবং এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষা সচিব নির্দেশনা জারি করলেও পরের দিনই তা স্থগিত করেন মন্ত্রী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ওই সময় দাবি করেছিলেন, ‘মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে’ ওই ফাইলে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসে।

নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলেও ক্লাসে ৭০ শতাংশ উপস্থিতি থাকলে ছাত্রছাত্রীদের এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে গত ৩ মার্চ পরিপত্র জারি করেন শিক্ষা সচিব। সচিবের এই নির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ মহলে কঠোর সমালোচনা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত