০৯ জুলাই, ২০১৫ ০১:৫৩
‘গলধাক্কা খেয়ে’ অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা আইয়ূব খানের কথা ‘মনে করতে পারছেন না’ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অভিযুক্ত সচিব এম এ হান্নান। তিনি দাবি করেছেন, ওই মুক্তিযোদ্ধা চিরকুটে যে বর্ণনা দিয়ে গেছেন সে রকম ঘটনা তার বাসায় বা মন্ত্রণালয়ে ঘটেনি, তিনি তাকে চেনেনও না।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তোপখানা রোডের কর্ণফুলী হোটেলের ২০৪ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আইয়ুব খানকে (৬২) উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
ঘটনার একদিন পর বুধবার এম এ হান্নান গণমাধ্যমের কাছে দাবি করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তার চিরকূটে লিখে রেখেছেন যে তিনি জেলা কমান্ড কাউন্সিল গঠনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন, কিন্তু এখানে সেই কাজই হয় না। জেলা কমান্ড কাউন্সিল গঠনের কাজ করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল। সুতরাং এই কাজের জন্য তিনি আমাদের কাছে এসেছেন বলে খবর সত্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ৩২ বছরের চাকরি জীবনে তিনি কখনো কাউকে গালিও দেননি। একই সাথে সচিব বলেন, ওই চিরকূটে মুক্তিযোদ্ধা তার বাসায় যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সচিব যে বাসায় থাকেন সেখানে যেতে হলে সিকিউরিটিকে অবগত করতে হয়। এসব কাজ তিনি অফিসে বসেই করেন। তাই বাসায় যাওয়ারও কোনো প্রশ্ন উঠে না।
আত্মহত্যা করা মুক্তিযোদ্ধাকে কখনও দেখেননি দাবি করে এম এ হান্নান আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত, দুঃখিত। উনার সাথে কে খারাপ আচরণ করেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনি না বা দেখিনি।
“প্রতিদিন অনেক মানুষ মন্ত্রণালয়ে আসেন, মন্ত্রী ও আমার সঙ্গে দেখা করেন। ওই মুক্তিযোদ্ধাও আসতে পারেন। তবে যেসব কথা বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা হয়েছে সেরকম কোনো ঘটনা আমার জানা নেই।”
“বিভিন্ন পত্রিকায় লেখা হয়েছে, তিনি শুঁটকি, মাছ ও টাকা আমাকে দিয়েছেন। আবার আমার বাসায় গিয়ে অপমানিত হয়েছেন। তাই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।”
ইস্কাটন গার্ডেনে নিজের বাসায় যে কেউ সহজে ঢুকতে পারেন না জানিয়ে সচিব বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ইস্কাটন গার্ডেন, এমনকি আমার মন্ত্রণালয়েও হয়নি।”
মৃত্যুর আগে একজন মানুষ কোনো কারণ ছাড়া কাউকে জড়াবে কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা আমারও প্রশ্ন? আমিতো শুঁটকি মাছ কখনও খাইনি, শুঁটকির গন্ধ সহ্য করতে পারি না।”
মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি আবাসিক হোটেলে আত্মহত্যা করেন মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খান। মৃত্যুর আগে তিনি ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লেখা চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করে যান।
চিঠিতে নিজেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার দাবি করে তিনি লিখেছেন, চট্টগ্রাম উত্তর ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছিলেন। কাজ করে দেওয়ার জন্য সচিব তার কাছ থেকে মাছ, শুটকি ও নগদ টাকা পর্যন্ত উপঢৌকন নিয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন আত্মহত্যা করা মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি লিখেছেন, সচিবের কাছে গেলে সচিব তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এই অপমানের গ্লানি নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করে গেছেন।
আপনার মন্তব্য