২৮ জুলাই, ২০১৫ ১৩:১১
অবশেষে ক্ষমা চাইলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. জাফরুল্লাহ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে তার করা আপিল নিষ্পত্তির দিন নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় তার অর্থদণ্ড মওকুফ করেছেন আপিল আদালত।
সেই সঙ্গে জাফরুল্লাহকে আদালত সতর্ক করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান।
জাফরুল্লাহর ক্ষমার আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপলি বেঞ্চ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিষয়টি নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেয়। আদেশে বলা হয়, ‘কনভিকশন ইজ কোয়াশড’। জাফরুল্লাহ এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদেশের পর রেজাক খান গণমাধ্যমকে বলেন, “উনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। ওই আবেদন আদালত গ্রহণ করেছেন। সতর্ক করে দিয়ে আদালত আদেশ দিয়েছেন।”
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার দণ্ড বাতিল করেছেন। ভবিষ্যতে বিচারক ও বিচারবিভাগ সম্পর্কে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক করে দিয়েছেন।”
ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘অবমাননাকর’ বিবৃতি দেওয়ায় গত ১০ জুন জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে সাজা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শাস্তি হিসাবে তাকে এক ঘণ্টা আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেইসঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে একমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে জাফরুল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে গেলে বিচারক অর্থদণ্ডের আদেশের কার্যকারিতা ৫ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সোমবার বিষয়টি আপিল বেঞ্চে উঠলে জাফরুল্লাহর আইনজীবী জানান, তিনি ক্ষমা চেয়ে আবেদন করবেন। এরপর আদালত আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন রাখে।
আদালত অবমাননা জাফরুল্লাহর জন্যে নতুন কিছু নয়। এর আগে একটি টকশো’তে আদালত সম্পর্কিত অবমাননাকর মন্তব্যের কারণে আরও একবার তাকে ট্রাইব্যুনালে জবাব দিতে হয়েছিল।
গত ১০ জুন সাজার আদেশের পর বাইরে এসে বিচারকদের নিয়ে মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি অবমাননার মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
উল্লেখ্য, ডেভিড বার্গম্যান বাংলাদেশের চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করতে লেখালেখির কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বার্গম্যানকে একদিনের দণ্ড দিয়েছিলেন। এ দণ্ডের প্রেক্ষিতে প্রতিবাদ জানিয়ে জাফরুল্লাহসহ আর ৪৯জন নাগরিক বিবৃতি দিয়েছিলেন।
বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হলে ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে জাফরুল্লাহ ছাড়া অপরাপর সবাই ক্ষমা প্রার্থনা করেন। জাফরুল্লাহ ক্ষমা না চাওয়ার প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে জাফরুল্লাহকে এক ঘন্টার দণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আপনার মন্তব্য