০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ১৪:১০
নদী দখলের অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিকে স্থানীয় কিংবা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি না দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছন হাই কোর্ট। একই সঙ্গে নদী দখলে অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে কোনো ধরনের ব্যাংক ঋণ না পায় সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককেও নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।
রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ তুরাগ নদী রক্ষা সংক্রান্ত রিটের রায়ে এ ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে আদালত বলেছেন, কারও বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে দেশের সকল নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ কোনো নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
আর এই অভিযোগটি নদী রক্ষা কিমশন তদারকি করবেন বলে নির্দেশনা দিয়েছেন হাই কোর্ট।
এর আগে ২০১৬ সালের ৯ জানুয়ারি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দখলকৃত তুরাগ উদ্ধারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেন। পরে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি বিআইডব্লিউটিএ তুরাগ উদ্ধারের পদক্ষেপ বিষয়ে হাই কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে। এদিন বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার জন্য গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন হাই কোর্ট।
২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর জরিপ অনুসারে তুরাগ নদীর জায়গা উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
নদীর দখলকৃত ভূমি উচ্ছেদে আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে কয়েক আপিল দায়ের করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে রুল শুনানির আদেশ দেন।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের আদালতে রুল শুনানি শুরু হয়ে উভয় পক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) রিটের রায় ঘোষণা শুরু হয়। বুধবার ও বৃহস্পতিবার আংশিক রায় ঘোষণা করে রোববার অসমাপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
আপনার মন্তব্য