১৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ১৫:১৮
সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে চলতি মাসের শুরুতে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাসম্পন্ন পরিচালনাকারী (এসএমপি অপারেটর) হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এরই ধারাবাহিকতায় প্যাকেজ, অফার ও কলরেটসহ নতুন সেবার তথ্য জানিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গতকাল প্রতিষ্ঠানটিকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়েছে।
এসএমপি অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনের করণীয় ও বর্জনীয় কার্যক্রম নির্ধারণ করে বিটিআরসির চিঠিতে বলা হয়, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বতন্ত্র ও একক স্বত্বাধিকার চুক্তি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির কোনোভাবেই মাসে কল ড্রপের সর্বোচ্চ হার ২ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি সেবার (এমএনপি) লক ইনের মেয়াদ হবে ৩০ দিন।
গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা) প্রণিধানমালা, ২০১৮ জারি করা হয়। এ প্রণিধানমালা গ্রাহক সংখ্যা, অর্জিত বার্ষিক আয় ও কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত তরঙ্গসহ অন্যান্য সম্পদ—এ তিনটির যেকোনো একটির নির্ণায়কের ভিত্তিতে সেলফোন সেবা খাতের মোট বাজারের কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলে তা ওই বাজারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা (এসএমপি) হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কমিশন দেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাসম্পন্ন পরিচালনাকারী চিহ্নিত করে তার করণীয় ও বর্জনীয়-সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করবে।
জানা গেছে, বাজারে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এসএমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ট্যারিফ ও করহার প্রযোজ্য হবে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বাজারে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য কমিয়ে আনতে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকায় ৫৫ শতাংশ, নেপালে এসএমপি ৩৫ ও পাকিস্তানে ৫৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার এসএমপির আওতাভুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সেলফোন সেবা ছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের শতকরা হার সরকারের অনুমোদনক্রমে প্রশাসনিক আদেশ দ্বারা জারি করবে কমিশন। পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হবে।
আপনার মন্তব্য