২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ১৬:৪৫
চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের স্থান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো মরদেহগুলোর মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া দুইটার দিকে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ জানান, বেলা সোয়া দুইটার দিকে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যাদের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে সেগুলো তাদের স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শনাক্ত মরদেহের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও এদিন ৩০-৩৫টি মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
চকবাজার থানার এসআই প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, সুষ্ঠুভাবে লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় কাজটি করছে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের তথ্য সরবরাহের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেলে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
মরদেহ সমাহিত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তথ্যকেন্দ্রে অবস্থান করা জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ইমরুল হাসান।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকার কয়েকটি ভবনে লাগা আগুন সকালে নেভানোর পর ৭০টি লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানোর কথা জানায় কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ।
তবে ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ ৬৭টি লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
সংখ্যার এই গড়মিলের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক তারেক হাসান ভূইয়া জানান, 'আমাদের হিসাবে লাশ ৭০টি। তবে কয়েকটা ব্যাগে খণ্ড খণ্ড ডেডবডি ছিল। সম্পূর্ণ ডেডবডি হয়ত ৬৭টি হতে পারে।'
নিহতদের অনেকের দেহ এতই পুড়েছে যে শনাক্ত করার অবস্থা নেই। তাদের ডিএনএ নমুনা রাখা হবে যেন স্বজন কারও সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা যায়।
এছাড়া আগুনে দগ্ধ নয়জনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশ দগ্ধ একজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এর বাইরে আরও নয়জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য