০২ আগস্ট, ২০১৫ ২০:২২
খাস জমি থেকে ভূমিহীন চা শ্রমিকদের না সরিয়ে সরকারকে ভূমি দস্যুদের কাছ থেকে জমি উদ্ধার করতে বলেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র কতটা বাহাদুর তখনই বোঝা যাবে।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চা-জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্ডিজেনাস সোশাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন ও চা শ্রমিকেরা এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
আলোচনা সভার আগে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর চা বাগানের শ্রমিকদের কৃষি জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল না করার দাবিতে চা শ্রমিকেরা সেখানে মানববন্ধন করেন।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, চা-শ্রমিকদের ব্যবহৃত ৫১১ একর জায়গা নিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা মেনে নেওয়া যায় না। কেননা এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থনৈতিক উন্নতি করতে গিয়ে যদি দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে দেশ মধ্য আয়ের না উচ্চ আয়ের তাতে কিছুই যাবে আসবে না।
মিজানুর রহমান চা শ্রমিকদের কমিশন বরাবর একটি লিখিত আবেদন করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আবেদন করলে এই অন্যায় সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। মিজানুর রহমান বলেন, চা শ্রমিকদের তোলা চায়ের পাতার ওজন কম দেখানো হয়। ‘জমাবাবু’ এই চুরিটা করে। তা ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিন মজুরি পান না শ্রমিকেরা। এগুলো শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চা শ্রমিকেরা যে জায়গায় বসবাস করেন সেগুলো তাঁদের অর্জিত সম্পত্তি। সরকার এগুলো নিতে পারে না।
জাতীয় সংসদের আদিবাসী বিষয়ক ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রয়োজন আছে। কিন্তু কারও ক্ষতি করে নয়।
লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটার কোনো প্রয়োজন নেই। উন্নত দেশগুলো এগুলো করছে না। গরিব দেশের ওপর এগুলো চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, ধানের জমি নষ্ট করে কিছু করা যাবে না।
মূল প্রবন্ধে চা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। এতে চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার, চা বাগানে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ করার দাবি জানান।
সংগঠনের সভাপতি স্বপন সাঁওতালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মেসবাহ কামাল, মোহন রবিদাস, গবেষক জান্নাত এ ফেরদৌসি, কাঞ্চন পাত্র প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য