১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৩১
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে নুসরাত জাহান রাফি স্মৃতি ফাউন্ডেশন আত্মপ্রকাশ করেছে।
রোববার বিকেলে কামরুল হোসেন টিপুর সভাপতিত্বে নুসরাত জাহান রাফি স্মৃতি ফাউন্ডেশন আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে বক্তব্য দেন নুসরাতের বাবা এ কে এম মুছা মিয়া।
সভায় সর্বসম্মতিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ চৌধুরীকে সভাপতি, কামরুল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে প্রাথমিকভাবে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা নুসরাত জাহান রাফির বাবা এ কে এম মুছা মিয়া, মা শিরিনা আক্তার, সহসম্পাদক মাহতাবুর রশীদ, নুরুল হুদা, মো. আলী ফরহাদ, কোষাধ্যক্ষ নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান ও রাশেদুল হাসান।
নুসরাতের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে প্রধানমন্ত্রী ও গণমাধ্যম যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞ। এই ফাউন্ডেশন অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়াবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাহতাবুর রশীদ, মোস্তাক আহমেদ সেলিম ও হাজী রফিকুল ইসলাম। নুসরাতের পরিবারের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা শ্লীলতাহানি করেন অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলায় ওই দিনই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর শনিবার আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাত সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বোরকা পরিহিত ৪/৫ জন। এতে নুসরাতের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসপাতাল হয়ে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।
এই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজকে সাময়িক বরখাস্ত করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। রোববার নুসরাতের চিকিৎসায় ৯ সদস্যের বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর ওপর এমন নির্মমতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নুসরাতের শারীরিক অবস্থা বিমান ভ্রমণের উপযোগী না থাকায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আপনার মন্তব্য