১৭ আগস্ট, ২০১৫ ১৩:২৯
দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার এক দশক পেরিয়ে গেলেও সবগুলো মামলার বিচার কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এখনও নিষ্পত্তি হয়নি ৫৮টি মামলার। জঙ্গিরা এখনও বেপরোয়া।
ঘটনার জন্যে দায়ি ‘জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)’ প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ হলেও ভিন্ন ভিন্ন নামে গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। প্রকাশ্য হয়ে খুন করে যাচ্ছে মুক্তচিন্তার মানুষদের।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নিজেদের 'অস্তিত্ব' জানান দিয়েছিল। মুন্সিগঞ্জ ছাড়া দেশের সবকটি জেলায় একই সময়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছিল তারা।
কথিত ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ওইদিন আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-আধা সরকারি স্থাপনায় জেএমবি জঙ্গিরা একযোগে বোমা হামলা চালায়। সেদিনের হামলায় নিহত হন দুজন। আহত হয়েছিল দুই শতাধিক মানুষ।
জেএমবির বোমা হামলার দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা হয়। এর মধ্যে বিচার শেষ হয়েছে ১শ ৩টি মামলার। এসব মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১শ’ ১৮ জনের যাবজ্জীবন ও ১শ ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছে চিহ্নিত অর্ধশতাধিক জেএমবি সদস্য।
গত ১০ বছরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জঙ্গিবিরোধী তৎপরতায় এ সংগঠন কোণঠাসা হলেও সম্ভব হয়নি তাদের নির্মূল করা। বিভিন্ন ঘটনায় মাঝেমধ্যেই নাম আসে জেএমবির।
পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, 'জঙ্গিরা যাতে আর এ ধরনের বোমাবাজি করতে না পারে সে জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্রিয় আছে। যেসব জঙ্গি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। জঙ্গিদের যারা মদদ দিয়েছিল তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। বিদেশি এজেন্টদের ব্যাপারেও আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।'
জানা যায়, দেশব্যাপী বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছিল জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ ৬৬০ জনকে। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৪৫৫ জনকে।
বিভিন্ন মামলার রায়ে ১৫ জনকে ফাঁসি ও ২৬৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। মোট ১০৩টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, ৫৮টি মামলা রয়েছে বিচারাধীন। সাক্ষী সংকটে এসব মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার পরও সংগঠনের সদস্যরা ছদ্মবেশে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ২০০৭ সালের ২৯ মে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও কাশিমপুর কারাগারে শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল ও ইফতেকার হাসান মামুনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।
তারপর সংগঠনের দায়িত্ব নেন মাওলানা সাইদুর রহমান। তিনি গ্রেপ্তার হলে পরবর্তী সময় মাওলানা সায়েম দলটির হাল ধরেন। আত্মগোপনে থাকা অনুসারীরা বিভিন্ন কারাগারে গিয়ে আটক জঙ্গি নেতাদের দিকনির্দেশনা নিচ্ছে বলেও গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
আপনার মন্তব্য