১৮ আগস্ট, ২০১৫ ১১:৫৩
বিজ্ঞান লেখক, গবেষক, ব্লগার অভিজিৎ রায় ও অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও মূল অর্থ যোগানদাতা সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর নীলক্ষেত ও ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক হওয়া তিন জন হলো- তোহিদুল ইসলাম, সাদেক আলী ও আমিনুল মল্লিক। এদের মধ্যে তৌহিদুল অর্থ যোগানদাতা। আর সাদেক ও আমিনুল হলেন হত্যার পরিকল্পনাকারী। এরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য বলে র্যাব দাবি করছে।
র্যাব সদরদফতরের লিগাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মেজর মাকসুদুল আলম বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আটক তিনজনের মধ্যে ব্লগার অভিজিৎ ও অনন্ত বিজয় দাশের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ যোগানদাতারা রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিএসসিতে আসার পর অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গি মৌলবাদীরা। ঘটনাস্থলে অভিজিৎ রায় মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর সঙ্গে থাকা স্ত্রী বন্যা আহমেদও আক্রমণের শিকার হন। মৌলবাদীদের চাপাতির কোপে তিনি হাতের আঙুল হারান।
ঘটনার পর অভিজিৎ রায়ের পিতা শিক্ষাবিদ অজয় রায় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা খুনীদের আসামি করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় কেবল ফারাবী শফিউর নামক একজনকে গ্রেফতার করলেও আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
অভিজিৎ রায়ের মামলা তদন্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ঢাকায় আসে। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে মামলার আলামত সংগ্রহ করে। অদ্যাবধি তাদের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গত ১২ মে সিলেটের সুবিদবাজারস্থ বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে জঙ্গি মৌলবাদীদের চাপাতির আঘাতে খুন হন আরেক ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। অভিজিৎ রায়ের মতো তাঁকেও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গি মৌলবাদীরা।
ঘটনায় অনন্তর ভাই রত্নেশ্বর বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মামলা করেন। কোন কুলকিনারা না হওয়ায় ঘটনার ১৩ দিন পর মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এ মামলায় পুলিশ স্থানীয় এক পত্রিকার ফটো সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে গ্রেফতার করে।
অভিজিৎ রায় ও অনন্ত বিজয় দাশ লেখালেখির কারণে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি মৌলবাদীদের হুমকি পেয়ে আসছিলেন।
গত ছয় মাসে বাংলাদেশে অভিজিৎ রায় (২৬ ফেব্রুয়ারি), ওয়াশিকুর রহমান বাবু (৩০ মার্চ), অনন্ত বিজয় দাশ (১২ মে), নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নীল (নিলয় নীল) (৭ আগস্ট) নামের চার জন ব্লগার খুন হন কিন্তু পুলিশ কোন মামলার কুলকিনারা করতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও আল-কায়েদা উপামহাদেশীয় শাখা দায় স্বীকার করে।
এর আগে আহমেদ রাজীব হায়দারকে (২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি) খুন করে মৌলবাদীরা। রাজীব হায়দারের মামলা বিচারের পর্যায়ে রয়েছে।
আপনার মন্তব্য