২৫ আগস্ট, ২০১৫ ১২:০০
রাজধানীর হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজুকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে র্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালত।
রবিবার ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহত আরজুর বড় ভাই মাসুদ রানা।
এ মামলায় র্যাব-২-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল মাসুদ রানাসহ র্যাবের তিনজন ও একজন সোর্সসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য তিন আসামি হচ্ছেন : র্যাব-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) শাহিদুর রহমান, পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ওয়াহিদ ও সোর্স রতন।
১৭ আগস্ট (সোমবার) রাতে কিশোর রাজা হত্যার অভিযোগে আটক হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগ সভাপতি আরজু র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।
মঙ্গলবার ভোরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত সোমবার মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোর রাজাকে হাজারীবাগের বাসা থেকে আরজুর বাসায় ডেকে নিয়ে পেটানো হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় মৃত্যু হয় ১৬ বছর বয়সী রাজার। পরে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। রাজা হত্যা ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক নম্বর আসামী ছিলো আরজু।
এদিকে, গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) হাজারিবাগ থানা ছাত্রলীগ নেতা আরজু মিয়া নিহতের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সবাইকে জবাব দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ফজলে নূর তাপস এমপি। বিএনপি-জামায়াতের তৈরি র্যাব দিয়ে এই সরকার চলতে পারে না মন্তব্য করে র্যাবকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছেন তিনি।
কিশোর রাজাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন হাজারিবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া। র্যাবের দাবি, অভিযানে গেলে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন আরজু। একই পরিণতি হয়েছে মাগুরায় মায়ের পেটে শিশু গুলিবদ্ধ হওয়ার ঘটনায় জড়িত আজিবরের। রাজধানীর হাজারিবাগে আরজু মিয়ার কুলখানিতে অংশ নিয়ে র্যাবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই এলাকার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
তাপস বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত র্যাব সৃষ্টির মাধ্যমে বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছিলো। র্যাবকে ঢেলে সাজাতে হবে, জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আমার আরজুকে কেনো হত্যা করা হলো তার জবাব প্রত্যেকটা ব্যক্তিকে দিতে হবে’।
প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ সকল প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি যখন নিঃশেষের পথে তখন নতুনভাবে দলকে সরকারের প্রতিপক্ষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে’। দল এবং সরকারে যেনো বিভেদ তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবানও জানিয়েছেন ফজলে নূর তাপস।
আপনার মন্তব্য