৩১ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:৪৩
চাঁদপুরে তিন শিশুর মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবে হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিশুদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়নাতদন্তকারী তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের প্রধান চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুজাউদৌল্লা রুবেল।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরম, বদ্ধ রুম ও ব্যাটারি থেকে নির্গত কেমিক্যালের কারণে রুমে অক্সিজেনের অভাব হয়ে থাকতে পারে। যার ফলে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়। শিশুদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য সিআইডির কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অফিসে পাঠানো হয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে গত শুক্রবার চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে ইমামের পুত্রসহ তিন মাদ্রাসা ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, এই ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ওখানে হয়তো কোন স্যাফোলেশন হতে পারে। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, ওই কক্ষে যে ব্যাটারি ছিল সে ব্যাটারি থেকে কোনো কারণে কেমিক্যাল রিয়েকশনের ফলে ওখানে যদি হাইড্রোজেন সালফাইড বা অন্য কোনো কেমিক্যালের উৎপাদন বা কার্বোনডাইজ অক্সাইড উৎপাদন বেশি হয়ে যায়- সেক্ষেত্রে অক্সিজেনের ডেফিসেন্সি হলে সেক্ষেত্রে অক্সিজেন নিতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে এটি আমাদের প্রাথমিক ধারণা। সিআইডিও আমাদের এমন একটি প্রাথমিক ধারণা দিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজই শিশুদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সিআইডি থেকে ক্রাইম সিন অ্যানালাইসিস টিম এবং ফরেনসিক টিম এসে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। তারা ঢাকায় গিয়ে সেগুলো পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেবে। সেই সাথে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসার পর সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যাবে।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি পুলিশের টিম কাজ করছে।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার আইচ জানান, তিন ছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিআইডি পুলিশের দুই টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদের মধ্যে পরিদর্শক মুর্তজা কবিরের নেতৃত্বে ক্রাইম অ্যানালাইসিস টিম ও পরীক্ষক পিন্টু পোদ্দারের নেতৃত্বে ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তারা কিছু আলামত সিস করেছে। তারা আমাদের কিছু পরামর্শ দিয়ে গেছেন, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।
এদিকে শিশু আব্দুল্লাহ আল নোমানকে তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে তার স্বজনরা। এছাড়া রিফাত ও ইব্রাহিমকে মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নিজ নিজ বাড়িতে দাফন করা হবে।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মতলবের পূর্ব কলাদি জামে ইমাম জামাল উদ্দিনের কক্ষ থেকে তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান (৮), মতলবের ভাঙরপাড় মাদ্রাসার নূরানি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মতলবের কাশিমপুর এলাকার মো. ইব্রাহিম পাটোয়ারী (১২) এবং মতলবের উত্তর নলুয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র মো. রিফাত প্রধানিয়ার (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আপনার মন্তব্য