সিলেটটুডে ডেস্ক

২৩ আগস্ট, ২০২৪ ২১:০০

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আ.লীগের নিন্দা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিস্ফোরক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর পাকিস্তানিদের দুঃশাসন, শোষণে অতিষ্ঠ ছিল এ দেশের আপামর জনতা। এ সময়ে তাদের মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্তির স্বপ্নে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু।’

নাছিম বলেন, ‘১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নিয়মতান্ত্রিক পথে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তাদের স্বভাবসুলভ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে দমনের পথ নেয়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে এ দেশের আপামর জনতা টানা ৯ মাস প্রশিক্ষিত একটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাঙালি হাজার বছরের পরাধীনতার শিকলমুক্ত হয়।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু না থাকলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। এই দেশকে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু, আর তারই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আজকে বাংলাদেশে যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে আর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, এসবই এক সূত্রে গাঁথা। শেহবাজ শরিফের বক্তব্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সরাসরি কটাক্ষ, ৩০ লাখ শহিদের আত্মদানের প্রতি অবমাননা। জাতির গৌরবময় লড়াইকে যে ভাষায় শেহবাজ শরিফ কটাক্ষ করেছেন, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শুধু আওয়ামী লীগ বা এ দেশের মানুষের নয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কর্তব্য। শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, তারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এ দেশে গণহত্যার জন্য লজ্জিত নন। তারা বারবার এ দেশের স্বাধীনতাকে হেয় করার চেষ্টায় লিপ্ত। সম্প্রতি এ দেশে স্বাধীনতার যাবতীয় স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করতে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তার পেছনে শেহবাজ শরিফদের হাত রয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিই জয়ী হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পাকিস্তানি কুচক্রী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বাংলার জনগণ বারবার পরাজিত করেছে। ভবিষ্যতেও এই ষড়যন্ত্রকারীরা জয়ী হতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিই জয়ী হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে গত বুধবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘যিনি পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি অবশেষে তার করুণ পরিণতি ভোগ করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান এই অবিভক্ত পাকিস্তানকে দুই ভাগ করেছিলেন।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত