২৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:০৮
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে ইভিএম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, ইভিএম আমরা মানি না। যেসব দেশে নির্বাচনে ইভিএম চালু করা হয়েছিল সেসব দেশে এই পদ্ধতি বাতিল করার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরো বলেন, আরপিও সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা থেকে বিরত থাকার জন্য বলব নির্বাচন কমিশনকে। অন্যথায় একদিন জনগণের আদালতে আপনাদের বিচার হবে।
বুধবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ‘তড়িঘড়ি করে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ এবং বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নাগরিক শঙ্কা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
মোশাররফ বলেন, শুনেছি আরপিও সংশোধন করা হচ্ছে, কিন্তু এটা কেন করা হচ্ছে? ইসি বলেছিলেন, সব দল না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। তাহলে এখন কেন এটা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? কোন দল আপনাকে মত দিয়েছেন এটা ব্যবহারে?
বিএনপি নেতা বলেন, আগামী নির্বাচন এই সরকার আবারও গায়ের জোরে করতে চায়। কারণ, তারা বুঝতে পেরেছে যে, জনগণকে যদি সুযোগ দেওয়া হয় তাদের ভোট দিতে তাহলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। এটা সরকারের গোয়েন্দারা তথ্য দিচ্ছে, এজন্য তারা একটার পর একটা কৌশল অবলম্বন করছে টিকে থাকার জন্য।
‘তারা (সরকার) ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্র করে জেলে পুরে দিতে পারলে বিএনপি ভেঙে যাবে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বিএনপি চায়, একটা অবাধ সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু গত পাঁচ সিটি নির্বাচন দিয়ে সরকার মানুষের আস্থা হারিয়েছে। নির্বাচনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে এগুলো অত্যন্ত জরুরি। এ দেশের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরেরা পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী সরকারের প্রতি আস্থা স্থাপন করতে পারে না, তাহলে আমরা কীভাবে তাদের বিশ্বাস করতে পারি?’
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সেই বাধাকে উপেক্ষা করে জাতীয় ঐক্যের যে সূর্যোদয়ের আভাস গণমাধ্যমে দেখলাম তাতে আমরা আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সব দেশপ্রেমিক মানুষের জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হবে, সেখানে এক ছাতার নিজে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে। আওয়ামী লীগ যত ষড়যন্ত্রই করুক জনগণ যখন রাস্তায় নামবে তখন কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না।’
দেশকে বর্তমান সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ প্রস্তুত দাবি করে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘আমি আশা করি, জাতীয় ঐক্যের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এটা আরো সম্প্রসারিত হবে। এ দেশের গণতান্ত্রিক, শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করব। আমরা মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’
সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, খালেদা ইয়াসমিন প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য