ডেস্ক রিপোর্ট

১৪ অক্টোবর, ২০১৫ ১২:৫৩

কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকীতে এনডিএফ’র আলোচনা সভা

নানকার বিদ্রোহের রূপকার, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের ১৬-মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে মহামন্দার দিকে ধাবিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব বাজার ও প্রভাব বলয় পুর্নবন্টন নিয়ে মুদ্রাযুদ্ধ, বাণিজ্যযুদ্ধ, আঞ্চলিক যুদ্ধ বিস্তৃত হয়ে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বৃদ্ধি করেছে।

বক্তারা আরো বলেন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, ইউক্রেন, লিবিয়া-আফ্রিকাসহ পৃথিবীর দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদীরা আগ্রাসন চালিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় বা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশকেও তারা এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত করতে চায়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কাপ্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যেমন তার প্রাধান্য অব্যাহত রাখতে চায় তেমনি সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীন তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয়ে কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নেতা ও ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, এনডিএফ কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির নেতা মৃগেন চক্রবর্তী, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ জসিমউদ্দিন ও সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি তারেশ বিশ্বাস সুমন, রিকশা শ্রমিক সংঘের সভাপতি সোহেল আহমেদ, দর্জি শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি জনি আহমেদ, শ্রমিকনেতা মোঃ জসিমউদ্দিন ও শাহিন মিয়া প্রমূখ।

উল্লেখ্য, কমরেড অজয় ভট্টাচার্য সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও স্ব-শ্রেণীর বিরুদ্ধে দাড়িয়ে সিলেট অঞ্চলের দাসপ্রথা সমতুল্য ‘নানকার’ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেন এবং নানকার প্রথার উচ্ছেদ করেন। আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে তিনি বিপ্লবী সাহিত্য চর্চাও করেন। নানকার বিদ্রোহের উপর তিনি ‘নানকার বিদ্রোহ’ নামক ঐতিহাসিক প্রামাণ্য গ্রন্থসহ ইতিহাসের ছেড়া পাতা, সুবল মাঝির ঘাট, কুলিমেম, রাজনগর, বাতাসীর মা, অরণ্যানী, অর্ধশতাব্দী আগে এদেশের গণআন্দোলন কেমন ছিল ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন, এছাড়াও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন।

একজন মার্কসবাদী লেলিনবাদী তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে তিনি সকল রূপের সংশোধনবাদের স্বরূপ উন্মোচনে কমরেড আব্দুল হকের সাথে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। আমৃত্যু সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ বিরোধী লড়াইয়ের এই অগ্রসেনানী ৭ বারে মোট ২০ বছর কারাবাস করেন। ১৯৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর ৮৫ বছর বয়সে মহান এই বিপ্লবী নেতা মৃত্যুবরণ করেন।



আপনার মন্তব্য

আলোচিত