২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৫
মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি: নং চট্ট: ২৩০৫ এর সদর উপজেলা শাখার কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মো. ইউসূফ মিয়াকে সভাপতি ও সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নির্বাচন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি: নং চট্ট: ২৪৫৩ এর সভাপতি সোহেল আহমেদ।
জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি মো. ছায়েদ মুন্সী ও কুলাউড়া পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান আহমেদ, জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রধান, কোষাধ্যক্ষ তারেশ বিশ্বাস সুমন, দপ্তর সম্পাদক মাসুক মিয়া, সাবেক সহ-সভাপতি মো. মোতালেব বেপারী।
সভায় বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিষপত্রের উর্ধ্বগতির এসময়ে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো আমরা হোটেল শ্রমিকরাও নিদারুণ দুঃখ-কষ্টের সাথে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হচ্ছি। বর্তমানে একজন শ্রমিকের সাধারণভাবে বেঁচে থাকতে হলে দৈনিক ন্যূনতম তিন বেলায় ১০০ টাকা শুধু খোরাকির প্রয়োজন। তাই একটি শ্রমিক পরিবারে বর্তমানে বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে বাঁচতে হলে দৈনিক ন্যূনতম ৫/৬শ টাকা দরকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বার পর্যন্ত সকলের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেলেও শুধু শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়নি। আজ পর্যন্ত জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়নি। তাই বর্তমান বাজারদরের সাথে সঙ্গতি রেখে একজন শ্রমিকের ন্যুনতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকাসহ ৬০ ভাগ বাড়িভাড়া এবং ১,০০০ টাকা চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা বাবদ সর্বমোট মাসিক মজুরি ১৮ হাজার টাকা ঘোষণা করা সময়ের দাবি।
তারা আরো বলেন, হোটেল মালিকরা দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। সরকার ও তার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মালিকদের এই বেআইনি তৎপরতার প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, যার ফলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বাঁচার মতো মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। এই লক্ষ্যে সংগঠন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
সভায় ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজি. নং বি-২০৩৭ এর ৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করার আহবান জানান হয়।
সভা থেকে চাল, ডাল, তেল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো, গ্যাস-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, বর্তমান বাজারদরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে নিম্নতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা ঘোষণা, ৮ ঘণ্টা কর্ম দিবস, নিয়োগ পত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ঢাকার ঘরোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে কিশোর শ্রমিক রিয়াদের খুনি হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং চালু করার দাবি জানানো হয়।
আপনার মন্তব্য