ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৭ নভেম্বর, ২০১৫ ১৮:৫৬

অনন্য মুশফিক ৭ হাজারি রানের ক্লাবে

টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কতখানি পরিশ্রমি আর দলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ এক তার প্রমাণ মিললো আবারও। প্রস্তুতি মনমত হচ্ছিল না নিজেই বিসিবি একাদশের হয়ে নেমে গেলেন ম্যাচ খেলতে, খেললেন এবং সেখান থেকে রানে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

জাতীয় লীগ খেলেছিলেন। কিন্তু সেখানে মুশফিকময় ব্যাটিং হচ্ছিল না। ছয় ম্যাচ খেলে মাত্র এক অর্ধশতক! নাহ, এটা কীভাবে মুশফিকের নামের সঙ্গে যায়। তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বিসিবি একাদশের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ৮৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলে জানিয়ে দিলেন- আমি প্রস্তুত!

মুশফিকের সে প্রস্তুতি আর পূর্বাভাসের ইঙ্গিত সে ত প্রথম ওয়ানডেতেই মিলল। দলের প্রয়োজনে নিজে খেললেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। যখন উইকেটে গিয়েছিলেন, ৩০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে। উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না। মন্থর উইকেটে বল ব্যাটে আসছিল কিছুটা থেমে। উইকেটে জমে যাওয়ার পরও প্রায়ই টাইমিং খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তামিম।

কিন্তু মুশফিক ব্যাট করছিলেন যেন ভিন্ন এক ২২ গজে। উইকেটে যাওয়ার খানিক পরই দারুণ টাইমিং ও প্লেসমেন্টে টানা দুটি চার মারলেন মুজারাবানিকে। আরেক পাশে সতীর্থরা যখন ছিলেন অস্বস্তিতে, মুশফিকের ব্যাট তখন সাবলিল। ইনিংস জুড়ে ব্যাট করে গেছেন একই গতিতে। ৫২ বলে ছুঁয়েছিলেন অর্ধশতক, ১০৪ বলে শতক!

শেষ পর্যন্ত ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১০৭ রানে রান আউট মুশফিক। তবে শঙ্কায় থাকা দলকে ততক্ষণে নিয়ে গেছেন আড়াইশ' রানের কাছাকাছি। অনন্য মুশফিকের অসাধারণ চতুর্থ শতকের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল করতে পেরেছে ২৭৩ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে শেষ দুই ম্যাচে অবশ্য মাঠেই নামা লাগেনি মুশফিকের। তার আগে অবশ্য ৫ ইনিংসে কোন হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাননি। একটা ছিল অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস। সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি, ৭ ইনিংস আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৫ রানের। তার আগের ম্যাচেই অসাধারণ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুশফিক। অবশেষে এই ইনিংসটাকে পরিণত করলেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিতে।

অথ্যাৎ সাত ম্যাচ বিরতি দিয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেলেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহিম। সেঞ্চুরি পূরণ করতে ছক্কা মেরেছেন একটি, আর বাউন্ডারি মেরেছেন ৮টি।

১০৪ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করার পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মুশফিক। ৪৭ এবং ৪৮তম ওভারে পড়ে বাংলাদেশের ৩ উইকেট। মুশফিকও এ সময় আউট হন গ্রায়েম ক্রেমারের সরাসরি থ্রোতে। ১০৯ বলে ১০৭ রান করে আউট হয়ে যান তিনি।

মুশফিকের এ চতুর্থ শতকের দিনে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা-মা দুজনই। বাবা ত দেশের মাটিতে খেলা প্রায় সব ম্যাচেই উপস্থিত থাকেন। এবার মা-এর উপস্থিতিতে মুশফিক কি উপহার দিলেন তেমনই স্পেশাল কোন শতক!

ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে সাত হাজারি রানের ক্লাবে ঢুকে গেলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের প্রথম ওয়ানডেতে সাত হাজার রানের মাইল ফলক অতিক্রম করেন তিনি।

এই ম্যাচের আগে তিন সংস্করণ মিলিয়ে মুশফিকের রান ছিলো ৬৯৭২। এর মধ্যে ওয়ানডেতে তার রান ছিলো ২৬৫০, টেস্ট থেকে ৩৭৬৪ এবং টি-২০ থেকে সংগ্রহ ৫৫৮ রান।

হোম অব ক্রিকেটে মাত্র ২৮ রান করতেই সাত হাজারি ক্লাবের গর্বিত সদস্য হন মুশফিক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত