২৮ আগস্ট, ২০২২ ০২:৪৮
শুরুতেই আঘাত হেনেছিলেন ফজল হক ফারুকি। এরপর সেই ধারা ধরে রাখলেন মোহাম্মদ নবি, মুজিব উর রহমানরা। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাত্তা পেল না শ্রীলঙ্কা। ফল এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার হার।
শনিবার দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৮ উইকেটে জিতেছে নবির দল। শ্রীলঙ্কার ১০৫ রান তারা পেরিয়ে গেছে ৫৯ বল বাকি থাকতে।
এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সুপার ফোরে যাওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল আফগানিস্তান।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। দুই ওভারের মধ্যে ফিরে যান টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। ফজল হক ফারুকির করা প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান কুসল মেন্ডিস ও চারিথ আসালাঙ্কা।
লেগ স্টাম্পে পিচ করে সোজা যাওয়া বল ফ্লিক করার চেষ্টায় সফল হননি মেন্ডিস। জোরাল আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নিয়ে সফল হয় আফগানিস্তান। বাঁহাতি আসালাঙ্কা শাফল করে লেগে খেলার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করেন।
পরের ওভারে পাথুম নিসানকাকে কট বিহাইন্ড করে থামান নাভিন উল হক। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রিভিউ নেন লঙ্কান ওপেনার। আল্ট্রাএজে কোনো স্পাইক ধরা না পড়লেও মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন তৃতীয় আম্পায়ার!
৫ রানে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ ওভারে নাভিনকে ছক্কায় উড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ভানুকা রাজাপাকসে। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রাজাপাকসে ও দানুসকা গুনাথিলাকার দুটি করে চারে আসে ২০ রান। স্পিনার মুজিব উর রহমানকে রিভার্স সুইপ করে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় গুনাথিলাকা ধরা পড়েন ডিপ পয়েন্টে। ভাঙে ইনিংসের সেরা ৪৪ রানের জুটি।
ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দাসুন শানাকার দ্রুত বিদায়ে বিপদ বাড়ে আরও। তখনও এক প্রান্তে রাজাপাকসের ব্যাটে আসছিল বাউন্ডারি। ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টায় মোহাম্মদ নবির সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে শেষ হয় তার লড়াই। ২৯ বলে এক ছক্কা ও পাঁচটি চারে তিনি করেন ৩৮। পরের বলে রান আউট হয়ে যান মাহিশ থিকসানাও, পান ডায়মন্ড ডাকের তেতো স্বাদ।
৬৯ রানে ৮ উইকেট হারানো দলটির সামনে তখন নিজেদের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা। তা এড়িয়ে শ্রীলঙ্কা শতরানে যেতে পারে মূলত চামিকা করুনারত্নের চেষ্টায়। মাহিশা পাথিরানার বিদায়ের পর একাদশ ব্যাটসম্যান দিলশান মাদুশাঙ্কাকে আগলে রেখে তিনি গড়েন ৩০ রানের জুটি।
শেষ ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে করুনারত্নেকে (৩৮ বলে ৩১) বোল্ড করে দেন ফারুকি। দারুণ বোলিংয়ে এই তরুণ পেসার ১১ রানে নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন নবি ও মুজিব।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লিউ হওয়া থেকে বাঁচেন গুরবাজ। পরে ঝড় তুলে এই কিপার-ব্যাটসম্যান রান বাড়ান দ্রুত। তাকে সঙ্গ দেন জাজাই। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে আসে ৮৩ রান। এর মধ্যে হাসারাঙ্গা ও করুনারত্নের করা শেষ দুটি ওভারে আসে ২১ রান করে।
পাওয়ার প্লের পর প্রথম বলে লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গাকে বেরিয়ে খেলার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যান গুরবাজ। ১৮ বলে চার ছক্কা ও তিন চারে তিনি করেন ৪০ রান।
জাজাইয়ের স্ট্রেইট ড্রাইভ বোলার থিকসানার হাত ছুঁয়ে বেলস ফেলে দিলে রান আউট হয়ে যান ইব্রাহিম জাদরান। নাজিবউল্লাহ জাদরানকে নিয়ে বাকিটা সারেন জাজাই। ২৮ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ৩৭ রানে।
আগামী মঙ্গলবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। বৃহস্পতিবার সাকিব আল হাসানের দলের বিপক্ষে খেলবে শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ১৯.৪ ওভারে ১০৫ (নিসানকা ৩, মেন্ডিস ২, আসালাঙ্কা ০, গুনাথিলাকা ১৭, রাজাপাকসে ৩৮, হাসারাঙ্গা ২, শানাকা ০, করুনারাত্নে ৩১, থিকসানা ০, পাথিরানা ৫, মাদুশাঙ্কা ১*; ফারুকি ৩.৪-১-১১-৩, নাভিন ৩-০-২৩-১, মুজিব ৪-০-২৪-২, ওমরজাই ১-০-২০-০, নবি ৪-০-১৪-২, রশিদ ৪-০-১২-০)
আফগানিস্তান: ১০.১ ওভারে ১০৬/২ (জাজাই ৩৭*, গুরবাজ ৪০, ইব্রাহিম ১৫, নাজিবউল্লাহ ২*; মাদুশাঙ্কা ১-০-১০-০, থিকসানা ৪-০-৩৫-০, পাথিরানা ১-০-১৬-০, হাসারাঙ্গা ৩-০-১৯-১, করুনারত্নে ১-০-২০-০, আসালাঙ্কা ০.১-০-১-০)
ফল: আফগানিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফজল হক ফারুকি
আপনার মন্তব্য