১০ অক্টোবর, ২০২২ ২৩:২০
কোন রাখঢাক রাখলেন না জাহানারা। স্পষ্ট করেই বললেন- ‘আজকে হেরে আমরা অনেকটাই হতাশ’। হতাশ হওয়ারই কথা। একে তো গত আসরের চ্যাম্পিয়ান। তার উপর ঘরের মাঠে খেলা। এবার তাই বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশাও ছিলো বেশি। মেয়েদের সাম্প্রতিক পারফরম্যাস সেই প্রত্যাশার পালে হাওয়াও জুগাচ্ছিলো।
অথচ টুর্ণামেন্ট শুরুর পর দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা- ক্রিকেটে এশিয়ার তিন শক্তিশালী দলের বিপক্ষেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে তো চলমান নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠা নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও সোমবার সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে থাইল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে ভারত। তবে আজকে (মঙ্গলবার) জয়ের কোন বিকল্প নেই জ্যোতিদের সামনে।
মঙ্গলবার সকালে সিলেটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সোমবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাহানারা যদিও সেমিফাইনালে উঠার কঠিন হিসেব নিকেষ দিচ্ছিলেন, তবে দিন শেষে জানা গেলো- হিসেব অতোটা কঠিন নয়। আজ জিতলেই চলবে বাংলাদেশের। মিলবে শেষ চারের টিকিট। তবে হেরে গেলে বা বৃষ্টিতে ম্যাচ পন্ড হয়ে গেলে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হবে তাদের।
সোমবার সিলেটে মেয়েদের এশিয়া কাপে ডিএলএস মেথডে শ্রীলঙ্কার কাছে ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন পাঁচে।
সোমবার ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে হাশার কথা জানিয়ে জাহানারা ইসলাম বলেন, আজকের ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিত ছিলো। সহজ টার্গেট ছিলো। টার্গেট সেট হওয়ার পরই নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পারিনি।
সোমবার শুরুটা ভালোই হয়েছিলো বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কা ব্যাটারদের ক্রিজে বেধে রেখেছিলেন সালমা-জাহানারারা। ১৮ ওভার ১ বল খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে শীলঙ্কার সংগ্রহ যখন ৮৩ তখনই নামে বৃষ্টি। এরপর বৃষ্টি আইনে ৭ ওভারে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১। টি২০ তে আপাত সহজ এই লক্ষ্যই তাড়া করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। থেমে যায় ৩৭ রানে।
ব্যাটাররা পরিকল্পনামতো খেলতে না পারার কারণেই সহজ লক্ষ্য অতিক্রম করা যায়নি জানিয়ে সংবা সম্মেলনে জাহানারা বলেন, সহজ টার্গেট ছিলো। এটা জেতা উচিত ছিলো। বৃষ্টির পরে উইকেটে একটু গতি এসেছিলো। বলও নিচু হচ্ছিলো। তবে উইকেটের দোষ দেবো না। এটা জেতা উচিত ছিলো। ম্যাচের শুরু থেকেই সিঙ্গেল নেয়ার দরকার ছিলো। শুরুটা ভালো করতে পারলে ম্যাচ সহজ হয়ে যেতো। আর শেষের দিকে যখন বিগ হিট করা দরকার ছিলো তখন তা করতে পারিনি।
বড় দলগুলোর সাথে এভাবে পরাজয়ের একটি কারণও খুঁজে পেয়েছেন জাহানারা। তার মতে,
আমরা বড়দলের বিপক্ষে অনেক কম খেলার সুযোগ পাই। সর্বশেষ ওয়াল্ডকাপ খেলেছি নিউজিল্যান্ডে। সেখানে বড় দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছি। তারপরে ওইভাবে কোন বড় দলের সাথে খেলার সুযোগ পাইনি।
তিনি বলেন, বড় দলের বিপক্ষে খেললেই বুঝতে পারবো আমাদের অবস্থা কোথায়। হুট করে একটা ম্যাচ বা টুর্ণামেন্ট খেললাম। এতে হারলাম বা জিতলাম। কিন্তু এসবের উপর দলের অবস্থান নির্ভর করে না। বড় দলগুলোর সাথে নিয়মিত খেলতে হবে।
তবে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার সাথে হারলেও তাদের সাথে শক্তির বিচারে এই তিনদলের তেমন কোন প্রার্থক্য নেই বলে মনে করেন এই পেসার।
বড় দল নয়, মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দূর্বল সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্টের সমীকরণ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে আরব আমিরাতকে মনে হচ্ছে- বিরাট এক বাধা। কেবল আমিরাত নয়, বাংলাদেশের ভয় তো আরেক জায়গাও। ভেন্যুর নাম যে সিলেট, শক্তির কবিতার মতো- ‘বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস’।
আপনার মন্তব্য