সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১৩

মেসির অসম্মান করায় চুপ থাকতে পারিনি, গাভির ওপর চড়াও হওয়া নিয়ে পারদেস

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের পর ঘটা একটি ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে ফুটবল দুনিয়ায়। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াও সরগরম। খেলায় হারের পর স্পেন তারকা গাভির ওপর আর্জেন্টাইন তারকা পারদেশের চড়াও হওয়ার ঘঠনায় নিন্দা চলছে বিশ্বময়।

কী ঘটেছিলো আসলে সে সময়? কেন মেজাজ হারিয়ে এমন অখেলোয়ার সুলভ আচরণ করলেন লেয়ান্দ্রো পারদেস?

সোমবার ভোরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষের বাঁশি বাজতেই মাঠে তৈরি হয় নজিরবিহীন এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। স্পেনের মিডফিল্ডার গাভি এবং আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মধ্যকার তুমুল হাতাহাতি ম্যাচ পরবর্তী সব আলোচনা কেড়ে নিয়েছে।

পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজে মাঠে ঢুকে পারেদেসকে টেনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

মাঠের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে খেলা শেষ হওয়ার পরও পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।


উত্তেজনার সূত্রপাত

অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলের পর ম্যাচ রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজান, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন।

অন্যদিকে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা।

স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ শেষ হতেই স্পেনের গাভি আর্জেন্টিনার পারেদেসের খুব কাছে গিয়ে কিছু একটা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাভির করা সেই মন্তব্য মোটেও পছন্দ হয়নি পারেদেসের।

কী বলেছিলেন গাভি

মাঠের এই ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে পরে সাংবাদিকের কাছে পারদেস বলেন, ফাইনাল বাঁশি বাজার পর যখন স্পেনের সবাই উদযাপন করছিল, তখন গাভি আমার কাছে আসেন। তিনি আমাকে দেখে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ‘আজ মেসিকে সাহায্য করার জন্য কোনো রেফারি বা ভিএআর নেই’। আমি এটা ভালোভাবে নিইনি। এটা ছিল অসম্মানজনক, বিশেষ করে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর।

পারদেস বলেন, আমি তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে ঘুষি মারি। আমি সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে একটা বাচ্চা ছেলেকে মেসিকে নিয়ে এভাবে কথা বলতে দিতে রাজি ছিলাম না। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দলের খেলোয়াড়রা ছুটে আসে, ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় এবং প্রত্যেকেই তাদের সতীর্থদের রক্ষা করার চেষ্টা করছিল।

পারদেস আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আবেগ যখন তুঙ্গে থাকে, তখন এমনটা ঘটেই থাকে। পরিস্থিতি যে একটা সংঘর্ষে পরিণত হয়েছিল, তাতে আমি গর্বিত নই, কিন্তু আমি কাউকে মেসিকে অসম্মান করতে দেখেও তার জবাব না দিয়ে থাকতে দিতে রাজি ছিলাম না।’


পারেদেসের লাল কার্ড

মাঠের এই নজিরবিহীন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেন রেফারি। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফাইনাল শেষের পর লাল কার্ড দেখার এমন ঘটনা একেবারেই বিরল।

ম্যাচ চলাকালীন বা ম্যাচ শেষে স্লেজিং নতুন কিছু নয়। তবে গাভি পারেদেসকে ঠিক কী বলেছিলেন, তা নিয়ে এখন বিশ্ব ফুটবলে চলছে নানা ধরনের গুঞ্জন। দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত