২১ জুন, ২০২৬ ১০:১১
শক্তির বিচারে লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর যেখানে যোজন যোজন এগিয়ে, সেখানে বিশ্বকাপের ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাওয়ের হারটাই ছিল অনুমেয়। কিন্তু ফুটবল মাঠে যে অঘটনই নিয়তি, তা আবারও প্রমাণিত হলো কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলপোস্টের সামনে যেন এক অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন এলয় রম। তাঁর অবিশ্বাস্য সব গোল বাঁচানোর ওপর ভর করে নিশ্চিত ফেবারিট ইকুয়েডরকে গোলশূন্য (০-০) ড্রয়ে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক পয়েন্টটি তুলে নিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও।
রোববার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রম। ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি।
পুরো ৯০ মিনিটে ইকুয়েডরকে গোলবঞ্চিত রাখতে একাই করেছেন ১৫টি দুর্দান্ত সেভ। রমের এই ১৫ সেভের রেকর্ডটি ১৯৬৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত সময় ছাড়াই অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে একজন গোলরক্ষকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড।
বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি (১৬টি) গোল বাঁচানোর রেকর্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের (২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে)।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় ইকুয়েডর কতটা চেপে ধরেছিল কুরাসাওকে। ম্যাচের ৭৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে কুরাসাওয়ের গোলমুখে মোট ২৬টি শট নেয় ইকুয়েডর, যার মধ্যে ১৫টিই ছিল অন-টার্গেট বা লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতা ও আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিংয়ে প্রতিটা নিশ্চিত গোলকে ব্যর্থ করে দেন রম।
৬৮ মিনিটে হাইড্রেশন ব্রেকের সময়ই তাঁর সেভের সংখ্যা ছিল ১১টি। অন্যদিকে কুরাসাও ২৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ১০টি শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল।
ম্যাচ শেষে তাই অভাবনীয় এক পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠে কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ইকুয়েডর এই ড্রয়ের পর বেশ কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ল। নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আগামী ২৬ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প নেই তাদের। একই দিনে অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে কুরাসাও ও আইভরি কোস্ট।
আপনার মন্তব্য