স্পোর্টস ডেস্ক

২০ জুন, ২০২৬ ০৯:১৩

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর কষ্টার্জিত জয়

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৭০ সেকেন্ড। এর মধ্যেই স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা স্কটল্যান্ড শিবির। ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার এক লফটেড পাস ধরে স্কটিশ ডিফেন্ডারকে পুরোপুরি পরাস্ত করে বল জালে জড়ালেন ইসমাইল সাইবারি। ৭১ সেকেন্ডের মাথায় করা এই দ্রুততম গোলকে পুঁজি করেই শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মরক্কো।

এই জয়ের পর ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে আফ্রিকার এই পরাশক্তি।

বোস্টন স্টেডিয়ামে মাঠে নামার আগে মরক্কোর মিডফিল্ডার আজ্জেদিন উনাহি বলেছিলেন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ব্রাজিলের চেয়েও বেশি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ হবে। বোস্টনে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গেল উনাহির কথা একদম মিথ্যে নয়। হাইতিকে হারিয়ে আসর শুরু করা স্কটল্যান্ড যে রক্ষণাত্মক ও শরীরনির্ভর ফুটবল খেলবে, তা জানাই ছিল। এই ম্যাচকে ঘিরে স্কটিশ কোচ স্টিভ ক্লার্ক রক্ষণে প্রথাগত পাঁচজনের বদলে চারজন নামিয়ে চমক দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বোস্টনের তপ্ত রোদে সেই কৌশল প্রথমার্ধে বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। মাঠের পজিশন খুঁজতেই স্কটিশদের প্রথমার্ধ কেটে যায়।

যার পুরো ফায়দা তুলেছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। আজ্জেদিন উনাহি, বিলাল এল খানুস আর ব্রাহিম দিয়াজদের নিয়ে গড়া মরক্কোর মাঝমাঠ প্রথমার্ধে ম্যাচে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। ৫৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলসংখ্যা বাড়াতে পারেনি আশরাফ হাকিমিরা। ব্যবধান আরও না বাড়ার জন্য স্কটল্যান্ড ধন্যবাদ দিতে পারে তাদের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে। প্রথমার্ধে হাকিমির একটি বিপজ্জনক শট রুখে দেওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে এল খানুসের নিশ্চিত গোলের হেডও ফিরিয়ে দেন তিনি। এর মাঝে সাইবারির আরেকটি স্লাইডিং শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে আক্ষেপ বাড়ে মরক্কোর।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খোলস ছেড়ে বেরিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল স্কটল্যান্ড। বিশেষ করে স্কট ম্যাকটমিনে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে গতি বাড়িয়ে মরক্কোর ডিফেন্সে ভীতি ছড়ান। খেলার বিভিন্ন সময়ে বক্সের ভেতর স্কটিশ ফুটবলাররা পড়ে গেলে দুইবার পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে স্কটল্যান্ড। তবে ভিএআর পরীক্ষা শেষে রেফারি তা নাকচ করে দেন। আক্রমণে ধার বাড়ালেও পুরো ম্যাচে মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভেঙে একটি শটও অন-টার্গেটে রাখতে পারেনি ইউরোপের এই দলটি।

মরক্কোর কাছে মাত্র ১-০ গোলে হারায় গোল ব্যবধানে বড় কোনো বিপর্যয় হয়নি স্কটল্যান্ডের। ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে থাকা স্কটিশদের পরবর্তী ম্যাচ শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে। শেষ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে হিসাব মেলাতে পারলে এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে অঘটন ঘটাতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে যাওয়ার সুযোগ এখনও টিকে আছে স্কটল্যান্ডের সামনে। তবে তার আগে শেষ রাউন্ডে স্কটিশ সমর্থকদের এখন মেলাতে হবে জটিল গাণিতিক সমীকরণ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত