স্পোর্টস ডেস্ক

০১ মার্চ, ২০১৫ ১২:২৭

আবারও হারল ইংল্যাণ্ড: কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলংকা

টানা তিন হারের কারণে ইংল্যাণ্ড হয়ত এখনই ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে রিটার্ণ টিকিট কনফার্ম করতে কিন্তু টুর্ণামেন্টের নিয়ম অনুযায়ি তাদেরকেও খেলতে হবে বাকি ম্যাচগুলো। তিন শতাধিক রান করেও ৯ উইকেটের বিশাল হারে তারা আসলে বুঝতেই পারছে না কী করা উচিত তাদের!

ম্যাচ ছিল শ্রীলংকা-ইংল্যাণ্ডের কিন্তু সেখানেও ছিল বাংলাদেশ কারণ ইংল্যাণ্ডের হার মানে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের উজ্জ্বল সম্ভাবনা- সেটাই হলো ওয়েলিংটনে।

কুমার সাঙ্গাকারা ও লাহিরু থিরিমান্নের দুই মেজাজের দুই শতকে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। জো রুটের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়েও ওয়ানডের সেরা টুর্নামেন্টে তৃতীয় হার এড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের পথে আরেকধাপ এগিয়েছে বিশ্বকাপের গত দুই আসরের রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা।

শতরানের ভালো ভিত কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি সাঙ্গাকারা। টানা দ্বিতীয় শতক পাওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত ইনিংসে ১৬ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।

রোববার ওয়েলিংটনের ওয়েস্টপ্যাক স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩০৯ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ৪৭ ওভার ২ বলে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন তিলকারত্নে দিলশান ও থিরিমান্নে। দিলশানের বিদায়ে ভাঙে ১৯ওভার স্থায়ী ১০০ রানের উদ্বোধনী জুটি। মইন আলির বলে ওয়েন মর্গ্যানের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৪৪ রান করেন দিলশান।

অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটে থিরিমান্নের সঙ্গে ২১২ রানের জুটি গড়ে দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন সাঙ্গাকারা। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হন ম্যাচ সেরা সাঙ্গাকারা।

ওয়ানডেতে ২৩তম শতক পাওয়া সাঙ্গাকারা শেষ পর্যন্ত ১১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ৮৬ বলের ইনিংসটি গড়া ১১টি চার ও ২টি ছক্কায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

তিন বার জীবন পাওয়া থিরিমান্নে অপরাজিত থাকেন ১৩৯ রানে। চতুর্থ শতকে পৌঁছানো এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ১৪৩ বলের ইনিংসটি সাজানো ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায়। ক্রিস ওকসের বলে নিজের দ্বিতীয় ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন তিনি।

৩, ৯৯ ও ১২২ রানে জীবন পান থিরিমান্নে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫২ রান করার পথেই তিন বার জীবন পেয়েছিলেন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

এর আগে মইন আলির সঙ্গে ইয়ান বেলের ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শুরুটা ভালো হয় ইংল্যান্ডের। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের বলে মইন সুরঙ্গা লাকমালের তালুবন্দি হলে ভাঙে ৯.২ ওভার স্থায়ী জুটি।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর রানের জন্য লড়াই করতে হয় ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের। ৬.৩ ওভারে অর্ধশতকে পৌঁছানো দলটি নিজেদের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যায় ২০তম ওভারের শেষ বলে।

তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে তিলকারত্নে দিলশানকে দুটি দুরূহ সুযোগ দেয়া বেল মাত্র ১ রানের জন্য অর্ধশতক পাননি। লাকমলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫৪ বলে ৪৯ রান করেন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

১০১ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো ইংল্যান্ড বড় সংগ্রহ গড়ে রুটের দৃঢ়তায়। অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যানের সঙ্গে ৬০ ও জেমস টেইলরের সঙ্গে ৯৮ রানের চমৎকার দুটি জুটি উপহার দেন রুট।

রঙ্গনা হেরাথের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে ১২১ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন রুট। ওয়ানডেতে এটি তার সর্বোচ্চ রান। তার আগের সেরা ছিল ১১৩ রান।

চতুর্থ শতকে পৌঁছানোর পথে মাত্র ২ রানে মাহেলা জয়াবর্ধনের হাতে জীবন পান রুট। শেষ পর্যন্ত ১২১ রান করা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ১০৮ বলের ইনিংসটি গড়া ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায়।

প্রথম ৬৫ বলে ৫০ রান করে রুট। আর শেষ ৪৩ বলে ৭১ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

রুটের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের সংগ্রহ তিনশ’ পার হয় জস বাটলারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেটে ক্রিস ওকসের সঙ্গে ৪৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। ৩৯ রানে অপরাজিত থাকা বাটলারের ১৯ বলের ইনিংসটি ৬টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ। রুট, বাটলারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ ৭ ওভারে ৯০ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩০৯/৬ (মইন ১৫, বেল ৪৯, ব্যালান্স ৬, রুট ১২১, মর্গ্যান ২৭, টেইলর ২৫, বাটলার ৩৯*, ওকস ৯*; হেরাথ ১/৩৫, দিলশান ১/৩৫, ম্যাথিউস ১/৪৩, পেরেরা ১/৫৫, মালিঙ্গা ১/৬৩, লাকমাল ১/৭১)

শ্রীলঙ্কা: ৪৭.২ ওভারে ৩১২/১ (থিরিমান্নে ১৩৯*, দিলশান ৪৪, সাঙ্গাকারা ১১৭*; মইন ১/৫০)

ম্যাচ সেরা: কুমার সাঙ্গাকারা।

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত