৩১ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩৮
বিরাট কোহলি চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেললেন। মুম্বাইয়ের নির্মম পিচে ধারণামতেই ১৯২ তুলল ভারত। জবাব দিতে নেমে ৫ রান করেই ফিরলেন গেইল। তবুও জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ক্যারিবিয়ান দলে যে সিঙ্গেল নেয়ার লোকই নেই। যারা আছেন সবাই একটা কাজই পারেন। সেটা চার-ছক্কা পেটাতে। তাই করে গেলেন চার্লস, সিমন্স, রাসেলরা। ২ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ উঠে গেল ফাইনালে।
১৯৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গেইল ঝড় লাগতই ক্যারিবিয়ানদের। কিন্তু গেইল ৫ রান করে ফিরলেন বোমরার বলে বোল্ড হয়ে। ৮ রান করে স্যামুয়েলসও ক্যাচ তোলে দিলেন নেহরার বলে রাহানের হাতে।
৩ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেটে পরিণত হওয়া ক্যারিবিয়ানরা যে এই ম্যাচ জিততে পারে অনেকেই হয়ত ভাবেননি। জনসন চার্লস আর ল্যান্ডল সিমন্স সেসব ভাবনাকে তুড়ি মেরে উড়াতে লাগলেন।
তবে সিমন্সকে 'অতি ভাগ্যবান' বললেও কম বলা হয়। দুইবার নো বলে আউট হয়ে বাঁচলেন তিনি। আরেকবার বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়ে দেখা গেল ফিল্ডারের পা লাইন ছুঁয়েছে। এই সিমন্সই ভারতের শত কোটি জনতার রাতকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করে আর আউটই হলেন না। ৫১ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন ত্রিনিদাদের এই ব্যাটসম্যান।
ভাগ্যের নয় আম্পায়ারের সহায়তা পেয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। তার বুক সমান বিমার বলকে অবাক করে নো ডাকলেন না ইয়ান গোল্ড। এই ইয়ান গোল্ডই মেলবোর্নে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে রোহিতের কোমরের নিচের থাকা রুবেলের বলেই আবার বিমার নো ডেকেছিলেন। ধারাভাষ্য বক্সে আওয়াজ উঠল এই না দেয়া "নো" বলটা না আবার ম্যাচের নির্ধারক হয়ে যায়। হতেই পারত। তবে খুনে মেজাজে থাকা আন্দ্রে রাসেল দানবীয় শক্তি নিয়ে শেষ কাজটা নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। মাত্র ২০ ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৪৩ করলেন এই অলরাউন্ডার। দৌড়ে নিয়েছেন মাত্র ৭ রান!
বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন ড্যারেন স্যামি।
তাতে কি তার বোলাররা খুব খারাপ করলেন? মুম্বাইয়ের পিচের ইতিহাস বলে খুব খারাপ কিছু করেননি বাদ্রি, ব্রাভোরা। তবু ভারতের রানটা ২০০ ছুঁই ছুঁই হতে পারলেন সৃষ্টিশীল কোহলির কারণে। বার দুয়েক রানআউটের হাত থেকে বাঁচলেন বটে তবু ওইটুকু 'ভাগ্য' সহায়তা লাগেই। মূলত তার ৪৭ বলে ৮৯ রানের ইনিংসই ভারতকে টানল। বিরাত বল করতে এসেও অবদান রাখতে চেয়েছিল। প্রথম বলেই উইকেটও পেয়েছিলেন। তবে শেষ ওভারে আর গেম্বলটা কাজে লাগল না।
উদ্বোধনি জুটিতে ৬২ তুলেছিলেন শর্মা ও রাহানে। শর্মা ২৯ বলে ৪৩ করলেও রাহানে ৪০ তুললেন লাগালেন ৩৫ বল।
এই পিচেও স্যামুয়েল বাদ্রে ৪ ওভার বল করে দিলেন মাত্র ২৬ রান, সাথে রোহিত শর্মার উইকেট। এই ছোট ছোট পারফরম্যান্সগুলো এসব ম্যাচে অনেক গুরুত্বপূর্ন।
আপনার মন্তব্য