১২ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৬:২৫
ম্যাচটা রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ৩-১ গোলে। তাই শুধু স্কোরলাইন দেখে ‘রিয়াল ভুগেছে’ কথাটা মানতে চাইবেন না অনেকেই। তবে এটা সত্যি, ব্যবধান যা-ই বলুক, কাল লিগের তলানির দল ওসাসুনার মাঠে জয় পেতে কষ্টই করতে হয়েছে রোনালদোদের। আর এর পেছনে কারণ হিসেবে অনেকে আঙুল তুলছেন রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে!
জিদান এখন ভাবতেই পারেন, ‘আর কত করলে তোমাদের মন পাব!’ দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র ১৩ মাস হলো, এর মধ্যে রিয়ালকে চ্যাম্পিয়নস লিগসহ তিন-তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতিয়েছেন। এবারও কালকের জয় নিয়ে লিগের পয়েন্ট তালিকায় রিয়াল আছে শীর্ষে, দুই ম্যাচ কম খেলেই দুইয়ে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে এগিয়ে আছে ১ পয়েন্টে। তবু তাঁকে কেন যেন সব সময় থাকতে হচ্ছে সমালোচকদের আতশি কাচের নিচে। কখনো বলা হয়, জিজু ‘স্রেফ ভাগ্যবান’, আবার একটু এদিক-ওদিক হলেই সমালোচনা তো আছেই।
কালকের ম্যাচটিই দেখুন। প্রতিপক্ষ ওসাসুনা লিগে এবার সাকল্যে জিতেছেই কেবল একটি ম্যাচ। কালকের ম্যাচের আগে ২১ ম্যাচে গোল খেয়েছে লিগ সর্বোচ্চ ৪৬টি! এই প্রতিপক্ষ দেখেই কি না, একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন ‘জিজু’। তাতে জয় পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তা পেতে রিয়ালের কষ্ট হয়েছে বলেই আঙুল উঠছে তাঁর দিকে।
সাধারণত রিয়ালকে ৪-৩-৩ ছকে খেলান জিদান। কিন্তু কাল দলকে নিয়ে গেলেন ৩-৫-২ ছকে। রক্ষণে রামোস-ভারান-নাচো, দুই উইংয়ে মার্সেলো ও দানিলো। মাঝমাঠে কাসিমেরো ও লুকা মডরিচের সঙ্গী ইসকো। সবার সামনে রোনালদো ও বেনজেমা। কিন্তু এই ছকে গোল পাওয়ার বদলে পুরো ম্যাচে রিয়ালকে দেখাল ছন্নছাড়া, সংশয়াচ্ছন্ন!
তবে এর মধ্যেই ২৪ মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন রোনালদো। সেটি অবশ্য বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা, নয় মিনিট পরই ওসাসুনাকে সমতায় ফেরান সার্জিও লিওন। তবে ৬২ মিনিটে ইসকো ও যোগ করা সময়ে লুকাস ভাসকেজের গোলে রিয়াল জিতে যায় ৩-১ গোলে।
তবু জিদানের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন, কারণ ‘পুঁচকে’ ওসাসুনাই প্রথমার্ধে রিয়ালের গোলে শট নেয় ৭টি, যেখানে রিয়াল শট নিয়েছিল ৬টি। দ্বিতীয়ার্ধেও ওসাসুনা শুরু করেছিল ভালোই, পরীক্ষায় ফেলেছিল রিয়াল গোলকিপার কেইলর নাভাসকে। কড়া ট্যাকলের ‘পসরা’ সাজিয়ে বসা ম্যাচটিতে ৫৭ মিনিটে রিয়ালের রাইট উইং-ব্যাক দানিলো চোট পান (চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছেন ওসাসুনার খেলোয়াড় তানোও)। তাঁর বদলে হামেস রদ্রিগেজ মাঠে নামার পরই রিয়াল ফিরে যায় কিছুটা পরিচিত ৪-২-৩-১ ছকে। এরপর থেকেই রিয়াল ম্যাচে আধিপত্য ফিরে পেতে শুরু করে।
এটা ঠিক, সব ম্যাচ সহজেই জেতা যায় না। কিছু কিছু ম্যাচে প্রতিপক্ষ কাগজে-কলমে সহজ হলেও ভুগতে হয়। কাল ম্যাচ শেষে জিদানও অবশ্য স্বীকার করেছেন সেটি, ‘দানিলোর চোটের কারণে আমাদের ছক বদলাতে হয়েছে। তাতে অবশ্য ম্যাচে আমরা ভারসাম্য ফিরে পেয়েছি। আজ আমরা বেশ ভুগেছি। দেখেছি যে দুটি দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান কত, মাঠে নামার পর সেটির কোনো মানেই থাকে না। ম্যাচটা অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও কঠিন ছিল।’ দলের খেলোয়াড়দের প্রচ্ছন্ন সমালোচনাও করলেন জিজু, ‘শুধু এক গোলে এগিয়ে থেকে যখন শেষ ১০ মিনিটে খেলি, ব্যাপারটা অস্বস্তিকর। মাঝে মাঝে খেলাটা শেষ করে দেওয়ার জন্য যে মনোযোগ দরকার, সেটি আমাদের থাকে না।’
তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামা রদ্রিগেজের প্রশংসা করেছেন জিদান, ‘মাঠে নামার পর হামেস যা করেছে, আমার ভালো লেগেছে সেটি। কঠিন পরিস্থিতিগুলোতে ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছে, সতীর্থদেরও ভালো খেলতে সাহায্য করেছে।’
সূত্র: ফক্স স্পোর্টস, মার্কা
আপনার মন্তব্য