১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৬:১৮
কামরুল ইসলাম রাব্বি; বাংলাদেশ দলের পেস বোলার। বল করাই কাজ তাঁর, আর দলের সকলেরই ব্যাট করতে হয় ব্যাট হাতে নামতে হয় ক্রিকেটের নিয়ম অনুসারে। এবারও তাই করেছেন, কিন্তু কেবলই নিয়ম-রক্ষার জন্যে কি নেমেছিলেন মাঠে?
না, তা হয় নি; দলের প্রয়োজনে উইকেট কামড়ে পড়ে থেকেছেন। সামলেছেন বল, প্রলম্বিত করেছেন ম্যাচের দৈর্ঘ্য! কিন্তু শেষরক্ষা হয় নি, অপরাপর ব্যাটসম্যানেরা আউট হয়ে গেলে দেখতে হয় দলের পরাজয়।
ভারতের বিপক্ষে হায়দ্রাবাদ টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ২০৮ রানে। ৪৫৯ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করার সাধ্য বাংলাদেশের ছিল না। সত্যিকার অর্থে টার্নিং পিচে চতুর্থ ইনিংস আর পঞ্চম দিনে কোনো দলের জন্যেই অসাধ্য সাধয় কাজ। ফলাফল হয়েছে তাই, ম্যাচ জিতেছে ভারত।
কিন্তু প্রতিরোধের টেস্ট ব্যাটিং মেজাজ মূলত দেখা গেছে নয় নম্বরে নামা রাব্বির ব্যাটে। উইকেটে চীনের প্রাচীর হয়ে তাঁর এন্ডে থামিয়ে দিয়েছিলেন উইকেট-পতনের ধারা। অশ্বিন-জাদেজার মতো বোলারেরাও তাই পুড়েছেন হতাশায়।
না, রাব্বি সেঞ্চুরি-হাফ সেঞ্চুরি কিছুই করেন নি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩ রানে, কিন্তু খেলেছিলেন ৭০ বল। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা অশ্বিন-জাদেজাকে সামলেছেন নির্দ্বিধায়! কামরুলের এ ইনিংস বাংলাদেশ দলের হয়ে শ্লথগতির। স্ট্রাইক রেট তাই ৪.২৮!
রাব্বির ৭০ বলের ইনিংসে খেলেছেন সকল বোলারকেই। এর মধ্যে রবীন্দ্র জাদেজার ৩০ বল খেলে করেছেন ১ রান; রবীচন্দ্রন অশ্বিনের ২৫ বল থেকে করেছেন ২ রান; এর বাইরে আরও খেলেছেন ভুবনেশ্বর কুমারের ১০ বল; ইশান্ত শর্মার ৩ বল; এবং উমেশ যাদবের ২ বল।
এ টেস্টের প্রথম ইনিংসেও অপরাজিত ছিলেন তিনি। এগারো নম্বরে নেমে খেলেছিলেন বল ১০টিও।
মাত্র ৪ টেস্টের ক্যারিয়ার তাঁর, কিন্তু এমন ধৈর্য্যের ইনিংস রাব্বির জন্যে নতুন কিছু না। নিউ জিল্যান্ড সফরেও এমন ঘটনাও ঘটিয়েছেন এ তরুণ। নিউ জিল্যান্ড সফরে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৩ বল খেলে ২ রান করেছিলেন রাব্বি। সেবার আউট হয়েছিলেন।
টেস্টে ৬০ বা তার বেশি বল খেলে এত কম রান করার রেকর্ড ক্রাইস্টচার্চের ওই ম্যাচের আগে ছিল দুটি। রাব্বি ওই রেকর্ডের পাতায় ঢুকে পড়ে সংখ্যাটাকে করেছিলেন ৩। এবার সেটিকে ৪ করলেন এবং ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবেই একই রকম কীর্তি দু'বার করে দেখালেন!
এর আগে, ১৯৯৯ সালে অকল্যান্ডে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডার ব্যাটসম্যান জিওফ অ্যালট ৭৭ বল খেলে ০ নিয়ে আউট হয়েছিলেন। আর ১৯৬৮ সালে গায়ানা টেস্টে ইংল্যান্ডের জন স্নো ৬০ বলে ১ রান করেছিলেন।
তাদের পরই আসছে কামরুল ইসলাম রাব্বির নাম। প্রথমে নিউজিল্যান্ডে। তখন অবশ্য তিন ব্যাটসম্যানই আউটের রেকর্ডে ছিলেন। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে অপরাজিত রাব্বি। তবে ১৯৭৯ সালের ব্রিজবেন টেস্টে ক্যারিবিয়ান জোয়েল গার্নার ৭৩ বল খেলে ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বরিশালে জন্ম নেওয়া কামরুল ইসলাম রাব্বি এর আগে খেলেছেন মাত্র ৪ টেস্ট। ২৬.৯৭ স্ট্রাইকরেটে করেছেন মাত্র ৪১ রান। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বারবার ওঠে এসেছে হায়দ্রাবাদ টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর উইকেটে পড়ে থাকার মানসিকতা। ধারাভাষ্যকারেরাও তাই বারবার প্রশংসার বৃষ্টিতে ভাসিয়েছেন তরুণ এ ক্রিকেটারকে।
এদিকে, রাব্বির এমন ইনিংস শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে ব্যাপক প্রশংসা। রাব্বির মত টেস্ট মেজাজে কয়েকজন ব্যাট করতে পারলে ম্যাচটা বাঁচানো যেত বলে মন্তব্য অনেকেরই!
ফেসবুকে ডা. এনামুল হক লিখেছেন, এই ম্যাচ জেতা যাবে না, তাই রান ফ্যাক্টর নয়। ক্রিজে আকড়ে থেকে ম্যাচ ড্র করতে হবে মেসেজটা একমাত্র কামরুলই পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। উইকেটে ঠিকে থাকার তার আপ্রাণ চেষ্টা আমায় মুগ্ধ করেছে। ৭০বল খেলে ৩রান, নটআউট! এটা নিশ্চয়ই তার স্বভাবগত খেলা না, খেলেছেন দলের প্রয়োজনে। তোমার কাছ থেকে সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের অনেক কিছু শেখার আছে... থ্যাঙ্কু কামরুল।
আপনার মন্তব্য