নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:১৬

বিপিএলকে ঘিরে উৎসবময় সিলেট

ভাই, বিপিএলের টিকিট হবে?
- কয়েক দিন ধরে সিলেটে সর্বোচ্চবার উচ্চারিত প্রশ্ন সম্ভবত এটি।

সিলেটের বাসিন্দাদের ফেসবুকও এখন বিপিএলময়। কেউ টিকিট চেয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। কেউ হাতে টিকিট নিয়ে আমেরিকান ভিসা পাওয়ার মতো গর্বিত হাসি দেয়া ছবি ফেসবুকে আপ করছেন। আবার কেউ কেউ ‘টিকিট চেয়ে বিরক্ত করবেন না’ বলেও লিখছেন ফেসবুকে। বিপিএলের সিলেট ভেনুর কর্মকর্তা আলী কামাল সুমন। বুধবার তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্লিজ, টিকিট চেয়ে ইনবক্সে নক করবেন না। সরি বলতে কষ্ট পাই। খুবই দুঃখিত।’

আর টিকিট বিক্রিস্থল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের সামনে হাঙ্গামা তো নৈমিত্তিক। যথারীতি আগের রাত থেকে ভিড় করছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। সকাল হতে ফুরিয়ে যাচ্ছে টিকিট। এরপর বঞ্চিত দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভাংচুর করছেন। তিনদিন ধরেই চলছে এমন। গতকাল তো পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় এক নারীসহ আহত হয়েছেন তিন টিকিট প্রত্যাশী।

টিকিট নিয়ে এই হাহাকার-হাঙ্গামাই জানান দিচ্ছে বিপিএল নিয়ে সিলেটে উন্মাদনা কোন মাত্রার?। সিলেটের মানুষ ক্রীড়ামোদী। ঘরোয়া লিগে স্টেডিয়াম উপচে পড়ে দর্শকে। মেয়র কাপের ওয়ার্ডভিত্তিক খেলায়ও গ্যালারি উপচে মাঠে আশ্রয় নিতে হয় দর্শকদের। ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমকালো আসর বলে উত্সাহের তীব্রতাও বেশি।

এবার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি সিলেট সিক্সার্স। গত আসরে সিলেটের নামে কোনো দল না থাকলেও আগের আসরগুলোয় ছিল। তবে ‘সিলেট রয়্যালস’ নামের সেই দল কেবল নামেই ছিল সিলেট। বাস্তবে সিলেটের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ ছিল না। তবে এবারের দলটি সিলেটকেন্দ্রিক। দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সিলেটের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন এই দলে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সিলেটকেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সিলেটের দর্শকদের নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছে এই দলটি। সিলেটকে ‘হোম টাউন’ বলেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা, বিভিন্ন সড়কে তোরণ, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে সিলেট সিক্সার্সের উদ্যোগে। পুরো শহরে এখন উৎসবের আমেজ। তবে দর্শকদের এই উন্মাদনা তো কেবল একটি দলকে ঘিরে নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্ট ঘিরেই। একটি দলের নয়, সব খেলারই টিকিট চাই সবার। এ যেন ক্রিকেটেরই ‘হোম টাউন’।

এবার প্রথম সিলেটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিপিএলের খেলা। দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণও এটি।

সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়াম বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। চারদিকে চা বাগান আর উঁচু-নিচু টিলার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এ স্টেডিয়াম। দেশের একমাত্র গ্রিন গ্যালারিও এখানে। শনিবার এই স্টেডিয়ামে সিলেট সির্ক্সাস বনাম ঢাকা ডায়নামাইটসের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিপিএলের পঞ্চম আসর। চারদিনে এ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে আটটি ম্যাচ। এরই মধ্যে অংশগ্রহণকারী সাতটি দল সিলেট এসে পৌঁছেছে। গতকাল অনুশীলন করেছে সব দল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে দেশে ফেরা জাতীয় দলের তারকারও যোগ দিয়েছেন অনুশীলনে।

সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেনু ম্যানেজার জয়দ্বীপ দাস সুজক বলেন, সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এবার খেলা শুরুর অপেক্ষা।

প্রস্তুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম)  মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এই টুর্নামেন্টের জন্য আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ছয়দিন নগরীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচল সীমিত থাকবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত