২৯ জুলাই, ২০১৫ ০৪:২১
চট্টগ্রাম টেস্ট খেলতে নামার আগে ওয়ানডে সিরিজ থেকে আত্মবিশ্বাস খুঁজেছিল বাংলাদেশ। আর ঢাকা টেস্ট খেলতে নামার আগে চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে আত্মবিশ্বাসের রসদ খুঁজে নিচ্ছে টিম টাইগার্স, কারণ ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেও বৃষ্টির জন্যে ম্যাচে শেষ হয় নিষ্প্রাণ ড্রয়ের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ট্রেনিং সেশন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সব ফর্মেটে বাংলাদেশ দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল জানালেন, ‘আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সেশন। প্রথম সেশনে ভালো খেললে কাজে দেবে। তখন এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে। আশা করি, মিরপুরে ভালো টেস্ট ম্যাচ হবে।’
তিনি বলেন, ‘খুব বেশি সুযোগ দেয়া যাবে না দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সেই চেষ্টাই করব আমরা। ওদের প্রত্যেক বোলারই বিশ্বমানের। চট্টগ্রামের উইকেট পেসারদের জন্য কিছু ছিল না। ঢাকার পিচে চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ওরা।’
ঢাকা টেস্টে নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে তামিম বলেন, ‘আমরা বিশ্বের একনম্বর টেস্ট দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলব। তাদের বিপক্ষে ভালো ফল পেতে চাইলে সব বিভাগে ভালো পারফর্ম করতে হবে। নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে। নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে করতে হবে মাঠে।’
তামিম আরও বলেন, ‘বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া যাবে না প্রতিপক্ষকে। তারা একনম্বর দল। আমাদের শুরুটা ভালো করতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর ছন্দ ধরে রাখতে পারলে ভালো হবে আমাদের জন্য। ব্যাটিং কিংবা বোলিং যা-ই করি না কেন, শুরুটা ভালো করা জরুরি।’
নিজের ব্যাটিং সম্পর্কে তার উপলব্ধি, ‘আমার মনে হয়, চট্টগ্রামে গোটা ইনিংসে একটা বলেই আমি ভুল করেছিলাম। ওই শটটা খেলা উচিত হয়নি আমার। আউট হওয়ার জন্য আসলে একটি বলই দরকার। চেষ্টা করব দেখেশুনে খেলতে। একই সঙ্গে নিজের শটও তো খেলতে হবে। যদি নিজের পছন্দে শট খেলতে গিয়ে আউট হই, আমার কোনো দুঃখ থাকবে না।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ অনেক শক্তিশালী। সেই তাদের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটি বড় করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? উত্তরে তামিম বলেন, ‘চট্টগ্রামের উইকেটে রান তোলা কঠিন ছিল। সেখানে আমরা যারা সেট ব্যাটসম্যান ছিলাম, আমাদের মধ্যে একজনের দায়িত্ব ছিল স্কোরটা বড় করার। আমরা তা করতে পারিনি। পারলে চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারতাম। ঢাকা টেস্টে তা করতে হবে। টেস্টে সেট হওয়া কঠিন। প্রথম ২০ রান করা কঠিন। প্রথম ৪০ রান করা অতটা নয়।’
তামিম ইকবাল বলেন, ‘২০১৫ সালটা খুব ভালো যাচ্ছে। এরপর আমাদের লম্বা অবসর। এই বছরের আগে আমরা বড় কোনো অর্জন করতে পারিনি। এ বছর পেরেছি। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত। সবাই উন্নতি করতে চায়। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। এখানে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তা খেলায় প্রভাব ফেলে। ফিজিও-ট্রেইনাররা আমাদের নিয়ে প্রচুর কাজ করেন। একেক দিন একেক ধরনের অনুশীলন করানোর চেষ্টা করেন। যাতে কেউ ক্লান্ত হয়ে না পড়ে। আমরা সবাই ওই অনুশীলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে করি। অনুশীলন, টিম মিটিং এসব আমরা এখন উপভোগ করা শিখে গেছি। যে কোনো বিষয় উপভোগ করা শিখলে সেটার ফল ভালো হয়।’
তামিম বলেন, ‘টেস্টে আমরা কখনও ভালো কিছু করতে পারিনি। মিরপুরে উইকেট কেমন হবে তা সবার জানা। সেটা মাথায় রেখেই আমাদের খেলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘টেস্টে সব বিভাগেই ভালো করতে হবে। যতই রান করি, পরে যদি ২০ উইকেট নিতে না পারি, তাহলে ফল আমাদের পক্ষে আসবে না। টেস্টে কোনো একটা দিককে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। বোলিংয়ে দ্রুত ওদের উইকেট নিতে হবে। আবার ব্যাটিংয়ে নিজেদের উইকেট ধরে রাখতে হবে। বড় জুটি গড়তে হবে।’
মিরপুরে স্পিনাররা কী সুবিধা পাবেন? তামিমের উত্তর, ‘উইকেট যদি স্পিনারদের সহায়তা করে, তারা অবদান রাখতে পারবে। এটা নির্ভর করে উইকেটের আচরণের ওপর।’
আপনার মন্তব্য