১৮ অক্টোবর, ২০১৫ ২১:২৫
দুটো জিডিরই নাম্বার ৬৪৯। দুটিতেই রয়েছে সিলেট বিমানবন্দর থানার সিল। দুই জিডিতে গ্রহণকারী হিসেবেও একই পুলিশ কর্মকর্তার স্বাক্ষর। গ্রহণকারী বিমানবন্দর থানার এএসআই উমা প্রসাদ। দুটোই দায়ের করা হয়েছে ১৫ অক্টোবর তারিখে। তবে অভিযোগ দায়েরকারী ভিন্ন। একজনের নাম সেবুল আহমদ। আরেকজনের নাম সালেহ আহমদ।
ভিন্ন তাদের অভিযোগও। সেবুল আহমদের জিডি চাঁদাবাজির অভিযোগে আর ছালেহ আহমদের জিডি পাসপোর্ট হারানো সংক্রান্ত।
একই থানায় একই তারিখে একই নম্বরে দু'টি জিডি হওয়ায় স্বভাবতই এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন ওঠেছে, কোন জিডিটি আসল?
গত ১৫ অক্টোবর সেবুল আহমদ'র দায়েরকৃত জিডির কপিটি সিলেটটুডে'র হস্তগত হয়। বিমানবন্দর থানায় সিল-সাক্ষর সংযুক্ত এই জিডিতে সেবুল আহমদ সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও চাঁদা না পেয়ে প্রাণনাশের হুমকীর অভিযোগ করেন।
জিডিতে সেবুল উল্লেখ করেন, গত কোরবানির ঈদে তিনি মেন্দিবাগ এলাকায় একটি গরুর হাট বসান। এই হাটের টাকা তুষার ও তার কয়েকজন অনুসারী সেবুলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। এরপর আরো এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তুষার। টাকা না দেওয়ায় তুষার তাকে হুমকী প্রদান করছেন।
এই জিডি'র কপি পেয়ে ১৫ অক্টোবর সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ আরো কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সিলেটটুডে তে 'ছাত্রলীগ নেতা তুষারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় জিডি' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুষারের বক্তব্যও যুক্ত করা হয়। বক্তব্যে তিনি চাঁদাদাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন।
শনিবার মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ প্রেরণ করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি 'মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' দাবি করে প্রতিবাদপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনে ৬৪৯ নম্বরের যে জিডির সূত্র দেওয়া হয়েছে, সেই নাম্বারের জিডিটি পাসপোর্ট হারানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এবং জিডিটি করেছেন সেবুল আহমদ নয়, ছালেহ আহমদ নামক জকিগঞ্জের এক বাসিন্দা।
ছালেহ আহমদের দায়েরকৃত জিডি'র কপিটিও প্রতিবাদপত্রের সাথে যুক্ত করে দেন তুষার। দেখা যায় এই জিডিতেও যথারীতি বিমানবন্দর থানার সিল ও পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষর রয়েছে।
তুষারের প্রতিবাদপত্র পাওয়ার পর শনিবার যোগাযোগ করা হয় তুষারের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী সেবুল আহমদের সাথে। জিডি'র ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুষারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনি বিমানবন্দর থানায় জিডি করেছেন। থানা পুলিশ সেটি গ্রহণও করেছে। তবে বিষয়টি দলের সিনিয়র নেতারা আপাষ করার চেষ্টা করছেন বলে জানান সেবুল।
একই নাম্বারের আরেক জিডি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন সেবুল।
এ ব্যাপারে দুই জিডিতেই স্বাক্ষরকারী বিমানবন্দর থানার এএসআই উমা প্রসাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সেবুলের জিডিটি ভূয়া। সে থানায় জিডি করতে এসেছিলো। কিন্তু চাঁদাবাজির অভিযোগে জিডি হয় না। মামলা করতে হয়। তাই তার জিডি গ্রহণ করা হয়নি। এরপর সে থানার সিল ও পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষর জালিয়াতি করে জিডির কপি বিভিন্ন জায়গায় বিলি করছে বলে শুনেছি।
ওসি বলেন, ৬৪৯ নম্বর জিডিটি পাসপোর্ট হারানোর অভিযোগে ছালেহ আহমদ দায়ের করেছেন।
থানার সিল সাক্ষর জাল করার পরও সেবুল আহমদকে আটক করছেন না কেনো- জানতে চাইলে ওসি বলেন, তাকে আমরা খুঁজছি। ধরে আপনাদের জানাবো।
পাসপোর্ট হারানোর দায়ে জিডিকারী ছালেহ আহমদের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। বাড়ি জকিগঞ্জ হওয়ার পরও কেনো বিমানবন্দর থানায় জিডি করলেন জানতে চাইলে ছালেহ আহমদ বলেন, পাসপোর্ট তো সিলেটেই হারিয়েছে। তাছাড়া বিমানবন্দর থানায় আমার এক বন্ধু আছে তাই সেখানে জিডি করেছি।
শনিবার আব্দুল আলিম তুষার প্রেরিত তার প্রতিবাদপত্রে লিখেন, প্রতিবাদপত্রটি যথাযথ স্থানে প্রকাশ না করলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।
আপনার মন্তব্য