২৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:১২
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নিষিদ্ধ পলিথিন আটকের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত সাইদুল ইসলামের (৩৮) বাড়ি থেকে দুটি মায়া হরিণের চামড়া উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে পৌর শহরের গাজিটেকা (আইলাপুর) এলাকার সাইদুল ইসলামের বাড়ির শৌচাগারের ছাদ থেকে চামড়া দুটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে গোপন তথ্য ছিল বড়লেখা পৌরসভার একটি বাড়িতে হরিণের চামড়া মজুদ আছে। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বন বিভাগ অভিযান চালায়। অভিযানে সাইদুল ইসলামের দুটি চামড়া উদ্ধার হয়। চামড়া দুটি বাড়ির ভেতরের একটি শৌচাগারের ছাদের উপরে পলিথিনে মোড়ানো ছিল।
বন বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত চামড়াগুলো কয়েক মাস আগের। শুকিয়ে অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করা ছিল।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আনিসুর রহমান, বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কমর্কতা শেখর রঞ্জন দাস, বড়লেখা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস, উপ পরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন প্রমুখ।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘গোপন তথ্য ছিল সাইদুল ইসলামের বাড়িতে হরিণের চামড়া মজুদ আছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান চালাই। অভিযান চালিয়ে চামড়া দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় বন আদালতে বন্য প্রাণী আইনে মামলা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই বড়লেখা পৌর শহরে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ৭০ মণ পলিথিন জব্দ করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে ২ জুলাই শহরের উত্তর বাজার এলাকায় একজনের ওপর হামলা ও পরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামকে গত ৮ জুলাই রাতে পুলিশ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৯ জুলাই বড়লেখা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আপনার মন্তব্য