০২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০৮
সিলেট নগরের মেন্দিবাগে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছে সিলেট জেলা পরিষদ। ‘সিলেট জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট-২' নামে ওই ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি ৩য় ও ৪র্থ তলা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে দরপত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে মার্কেটের ৩য় তলার নির্মাণ কাজ।
এনিয়ে জেলা পরিষদের এই প্রকল্পে দরপত্র জমা দেওয়া ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এভাবে দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্নের আগেই কাজ শুরু করে দেওয়াকে অনৈতিক বলে দাবি করেছেন তারা।
দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কাজ শুরু হওয়াকে অবৈধ দাবি করে সিলেট জেলা পরিষদ ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি বলেন, আইনগতভাবে এভাবে কাজ শুরু করা যায় না। দুই লাখ টাকার উপরে যে কোনো কাজই দরপত্র পক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে করার নির্দেশনা রয়েছে। এর ব্যত্য়য় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পে দরপত্র জমা দেওয়া ঠিকাদাররা এখনো কে কাজ পাচ্ছেন তা জানার অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ ইতোমধ্যে একজনকে দিয়ে কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মেন্দিবাগে এই মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করে জেলা পরিষদ। তখন ১ম ও ২য় তলার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৮ টাকা দরদাতা হিসেবে এই কাজ পান ঠিকাদার রুপক দাস। তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন করেন।
এরপর গত ২৯ জুলাই এই মার্কেটের ৩য় ও ৪র্থ তলা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৩ আগস্ট জমা পড়া দরপত্র খোলা হয়। তবে এখনো কার্যাদেশ হয়নি। তার আগেই শুরু হয়ে যায় ৩য় তলার নির্মাণ কাজ। ১ম ও ২য় তলার কাজ পাওয়া ঠিকাদার রুপক দাসই ৩য় তলা নির্মাণের কাজ করছেন।
গত সোমবার মেন্দিবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের ৩য় তলার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। এখন ৩য় তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ছাদ ঢালাইয়ের জন্য বাঁশ ও কাঠ বসানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩য় ও ৪র্থ তলার দরপত্রেও সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছেন রুপক দাস। ফলে তিনিই কাজ পেতে যাচ্ছেন। একই ঠিকাদার ১ম ও ২য় তলার কাজও করায় নির্মাণ কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় তাই ৩য় ও ৪র্থ তলার কার্যাদেশ হওয়ার আগেই তাকে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার রুপক দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার পক্ষে রিপন আহমদ নামে আরেকজন ঠিকাদার এই প্রকল্পের কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে রিপন আহমদ বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমি ৩য় তলার কাজ করছি। ১ম ও ২য় তলার কাজ শেষে কিছু টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছিলো। এই টাকা দিয়েই ৩য় তলার কাজ করছি।
এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদির মোজাহিদ বলেন, ৩য় ও ৪র্থ তলা নির্মাণের কার্যাদেশ এখনো হয়নি। নির্মাণ কাজও শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে অফিস প্রধানের অনুমতি ছাড়া আর কোনো মন্তব্য করতে তিনি অসম্মতি জানান।
সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবোজিৎ সিনহা এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবারও আমরা বৈঠক করেছি। মার্কেটের ১ম ও ২য় তলার কাজ যে ঠিকাদার পেয়েছেন ৩য় ও ৪র্থ তলার নির্মাণ কাজও তিনিই পেতে যাচ্ছেন। এর সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন কেবল ঘোষণার অপেক্ষা।
কার্যাদেশ হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মার্কেটের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ১৫টি করে দোকান কোটা করার কথা ছিলো। কিন্তু কিছু জায়গা ছাড়তে হওয়ায় ১৪টি করে দোকানকোটা হয়েছে। এজন্য কিছু টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। এছাড়া যেহেতু একই ঠিকাদার দুটি কাজই পেয়েছেন তাই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে আমরা তাকে ৩য় তলার কাজও চালিয়ে যেতে বলেছি। করোনা পরিস্থিতির কারণে কার্যাদেশ হতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এই সময়ে যাতে কাজ বন্ধ না হয়ে পড়ে সেজন্য কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শীঘ্রই ৩য় ও ৪র্থ তলার কার্যাদেশ হয়ে যাবে।
আপনার মন্তব্য