২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:০১
গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রীসের রাজধানী এথেন্সের আসপোগিরগো এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মমিন (৪০) ও শাহীন মিয়া(২৫)। নিহত দুজনের জানাযার নামাজ শেষে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পূর্ব বড় ভাকৈর ইউনিয়নের কামড়াখাই গ্রামে পৃথক সময়ে পৃথক স্থানে নিহত দুজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
দুপুর আড়াইটায় কামড়াখাই গ্রামের ঈদগাহে নিহত আব্দুল মমিনের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুপুর ২টায় নিহত শাহীনের জানাযার নামাজ তার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজারো মানুষ। অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় মমিন ও শাহীনকে শেষ বিদায় জানান আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে রোববার রাত ২টা ১০ মিনিটে গ্রীস থেকে একটি ফ্লাইটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত মমিন ও শাহীনের মৃতদেহ দেশে পৌঁছায়। পরে বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর শেষে স্বজনরা মমিন ও শাহীনের মৃতদেহ গ্রহণ করেন। ভোররাতে ঢাকা থেকে তাদের মৃতদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নবীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন স্বজনরা। সকাল ১০টায় মমিন ও শাহীনের লাশ বহনকারী দুটি অ্যাম্বুলেন্স নিজ গ্রাম কামড়াখাই গ্রামে পৌঁছালে এলাকার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শেষবারের মতো মমিন ও শাহীনকে এক নজর দেখার জন্য তাদের বাড়িতে সমবেত হন। এসময় মমিনের তিন সন্তান রায়হান (১৭),ফাতেমা (১৪),জাহান (৯),স্ত্রী ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। কান্নায় বার বার মূর্ছা যান নিহত মমিনের সন্তান, স্ত্রী, মা ও শাহীনের মা-বাবা। এলাকায় এক করুণ দৃশ্যের অবতারণ হয়।
এলাকার সবার মুখে একই ভাষ্য জানান, সরকারের অশেষ মেহেরবানীতে দেশে এসেছে মমিন ও শাহীনের লাশ, অসহায় এই দুটি পরিবারকে যেন সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
তবে সহায়তার প্রসঙ্গে প্রশাসন বলছে, প্রবাসী মমিন ও শাহীন যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তাদের সাথে গ্রীসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মন্তব্য