৩১ জুলাই, ২০২৬ ২০:৪৩
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপিকে, কিংবা সরাসরি তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলতে আমরা কখনোই পিছপা হব না। কারণ, যদি তারেক রহমান আবার ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারী পথের দিকে এগিয়ে যান, তাহলে শুধু বিএনপিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না—ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, সে কারণেই, যে কোনো যৌক্তিক বিষয়ে আমরা তারেক রহমানের গঠনমূলক সমালোচনা করব। এই সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা যদি না থাকে, তাহলে এখন থেকেই সেই মানসিকতা তৈরি করুন। কারণ, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ছাড়া কোনো দেশই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটের গোয়াইনঘাটে এনসিপির পদযাত্রা শেষে সমাবেশে এমনটি বলেন তিনি। জুলাই মাসজুড়ে এনসিপির কর্মসূচী ‘জুলাই পদযাত্রা’ দুপুরে কোম্পানীগঞ্জে যায়। সেখান থেকে গোয়াইনঘাটে যায় পদযাত্রা। সেখানেও পদসভা করে দলটি।
সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ওরা (বিএনপি) জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা তাদের সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছি। কিন্তু এখন তারা আবারও বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—বাংলাদেশে সংস্কার হবেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের দাবি, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সেই সংস্কারের পথ থেকে এক চুলও সরে যাব না। কারণ এই সংস্কারের দায়িত্ব আমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। আমরা একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যারা দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি করেছে, তাদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।
সংস্কার কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দেশের মানুষের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সংস্কারের এই যাত্রা অব্যাহত রাখব।
নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, আমরা সত্য কথা বললেই অনেকের গায়ে লাগে। কিন্তু সত্য বলা কোনো গালি নয়। দুর্নীতি, দখলদারিত্ব, অনিয়ম কিংবা জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করাও গালি নয়। স্কুলের মাঠ দখল, শিশুদের নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, ওষুধসহ মানুষের নিত্যদিনের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। এসব বিষয় তুলে ধরলে যদি কেউ অস্বস্তি বোধ করেন, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন করা, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো কখনোই গালাগালি হতে পারে না। গালি আর সমালোচনার মধ্যে পার্থক্য আছে। ব্যক্তিগত অশালীন ভাষা ব্যবহার করা গালি, কিন্তু জনস্বার্থে সত্য কথা বলা বা জবাবদিহি দাবি করা গণতান্ত্রিক অধিকার।
আপনার মন্তব্য