নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৪:২৮

ধর্ষণে অভিযুক্তের গলায় মালা পরিয়ে দিয়েছিলেন কাউন্সিলর সম্রাট!

দাড়িয়াপাড়ায় ধর্ষণ

সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকায় কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল হোসেন নিজু  (২০) নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কিশোরীরা মা বাদী হয়ে নগরীর কতোয়ালি থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত নিজু ছাত্রলীগের কর্মী। সে মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পিযুষ কান্তি দে গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিক্রম কর সম্রাটের সাথে আলাপকালে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেছিলেন, অভিযুক্ত তরুণ ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে যায় বলে শুনেছি। এখন তো সবাই-ই ছাত্রলীগ।

তবে শনিবার সকাল থেকে ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায় নিজুসহ আরও কয়েকজনকে জেলগেটে ফুলের মালা দিয়ে সংবর্ধিত করছেন কাউন্সিলর সম্রাট। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া উপলক্ষে নিজুসহ অন্যদের গলায় মালা পরিয়ে দেন তিনি।

পিযুষ গ্রুপ, সিলেট নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২৭ জানুয়ারি জেলগেটের এই ছবিটি আপ করা হয়।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট নগরীর জিন্দাবাজারের পাঁচভাই রেস্টুরেন্টের সামনে তিন প্রবাসীর উপর হামলা করে ছাত্রলীগের পিযুষ গ্রুপের কর্মীরা। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২৭ জানুয়ারি নিজুসহ ৬ জন মুক্তি পান। তাদের জেল গেটে সংবর্ধনা জানান কাউন্সিলর সম্রাট। তিনি নিজেও পিযুষের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন



এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরে পিযুষ কান্তি দেও গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।

ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তকে জেল গেটে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো প্রসঙ্গে শনিবার বিক্রম কর সম্রাটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে দাড়িয়াপড়ায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরাও ছাত্রলীগের কর্মী।

দাড়িয়াপাড়ার ঘটনায় কিশোরীর মায়ের দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই  কিশোরীকে বাসার ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে রাকিবুল হোসেন নিজু। নিজু দাড়িয়াপাড়ায় এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায়। আর কিশোরী নগরীর আরেকটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। তাদের মূল বাড়ি সদর উপজেলায়।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মিঞা বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত