বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৩ অক্টোবর, ২০২০ ২১:২২

বিশ্বনাথে প্রবাসীর বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ

সিলেটের বিশ্বনাথের হাবড়া বাজারে সরকারি পুকুর পাড় দখল করে মখলিছুর রহমান (৩৮) নামের এক দুবাই প্রবাসীর বিরুদ্ধে দোকান নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি হাবড়া বাজারের পাশ্ববর্তী সত্তিশ গ্রামের মৃত আরশ আলীর ছেলে। ২০১১ সালে স্থানীয় বাজারের সরকারি পুকুর পাড়ে ৩০ ফুট দৈর্ঘ ও ২০ ফুট প্রস্থের জায়গায় প্রথমে দালানের একতলা স্থায়ী একটি দোকান ঘর নির্মাণ করেন। গত ৪/৫দিন ধরে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।

এমন অভিযোগ এনে গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রবাসী মখলিছুর রহমানের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মিজান। তিনি সত্তিস গ্রামের মৃত হাজী মনোহর আলীর ছেলে। সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী বরাবরে অবৈধ দোকানঘর নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।

মিজানুর রহমান মিজানের দাবি, চরচন্ডী মৌজার ৯৮নং জেএলের ২৫০১ থেকে ২৫০৫ পর্যন্ত দাগের ৮২ শতক জায়গার পুকুর ২০১১ সালে তিন বছরের লিজ পান একই গ্রামের তৈয়বুর রহমান। তৎকালীন সময়ে তৈয়বুর রহমান ও উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মখলিছুর রহমান তার বড়ভাই মখদ্দুছ আলীকে দিয়ে একতলা দোকানঘর নির্মাণ করান। এবার দীর্ঘ ৭বছর পর নিজে দেশে অবস্থান করে দ্বিতীয় তলায় অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করছেন। তৎকালীন সময়ে তৈয়বুর রহমান দখলকারীদের হাত থেকে বাঁচতে বিশ^নাথ থানায় নিরাপত্তা চেয়ে জিডিসহ এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের তৎকালীন নাজির এমএ সাত্তার ও সার্ভেয়ার মফিজুর রহমান সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জায়গা মেপে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রশাসনকে উৎকোচ দিয়ে তখনও প্রভাবশালী মখদ্দুছ আলী একতলা দোকানঘর নির্মাণ করেন।

মিজানুর রহমান অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, দালান দোকানঘর নির্মাণ করে মখলিছুর রহমান সত্তিস, রমজানপুর ও চরচন্ডী গ্রামের প্রায় ৫শতাধিক পরিবারের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। জরুরী ভিত্তিতে অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বের করে দিতে প্রশাসনের সহযোগীতাও কামনা করেছেন মিজান।

তবে অভিযুক্ত দুবাই প্রবাসী মখলিছুর রহমান বলেন, নিজের মালিকানা জায়গায় তিনি বিল্ডিং নির্মাণ করছেন। আর অভিযোগ দাতা মিজানুর রহমান গ্রাম সম্পর্কে তার চাচা হওয়ায় তার সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। হয়রানি করতেই এ অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিংহের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেন নি।

তবে, এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: কামরুজ্জামান বলেছেন অভিযোগ কিংবা দখলের বিষয়টি তার জানা নেই। কিন্তু তার পরও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত