বানিয়াচং প্রতিনিধি

০৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:১৫

বানিয়াচংয়ে ১৬ স্পটে কেনাবেচা হচ্ছে মাদক

ক্রেতা-বিক্রেতা উঠতি বয়সী তরুণ

বানিয়াচং উপজেলা সদরের মধ্যে ১৬টি স্পটে কেনাবেচা হচ্ছে নানা রকমের মাদক। এসব স্পটে যারা মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত তাদের অনেকেই উঠতি বয়সী তরুণ। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন প্রভাবশালী দলের নেতারাও। সিলেটটুডের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে এমন তথ্য।

তবে এ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে মাদকের হাট অবশ্য নতুন কিছু নয়। মাঝে মাঝে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হয়। এসব অভিযানে চুনোপুটিদের আটক করা হয়। বেশিরভাগ সময় আবার অভিযান নিষ্ফল হয়। সব অভিযানেই অধরা থেকে যায় রাঘব-বোয়ালেরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বানিয়াচং উপজেলার বানিয়াচং বড় বাজারের বাসস্ট্যান্ড, কামালখানী রাস্তার জিপ স্ট্যান্ড, আদর্শ বাজারের নৌকা ঘাট, রঘু চৌধুরী পাড়ার ভূমি অফিসের মোড়, নতুন বাজার থেকে বড়বাজার যেতে টাম্বুলী টুলার স মিল, এলাড়িয়ার মাঠে পশ্চিমের রাস্তার মোড়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার পয়েন্ট, সাগরদিঘীর দক্ষিণপাড়, জনাব আলী সরকারি কলেজের পিছন, ছিলাপাঞ্জার মোড়, ঠাকুরাইন দিঘীর পাড় সংলগ্ন বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়ার ব্রিজ, নতুনবাজার বড়বাজার রোডের বাংলালিংক টাওয়ারের কাছে, মাদানি ম্যানসনের উত্তরে, খাদ্য গুদামের পিছন, মহিলা কলেজ রোডের কয়েকটি চায়ের দোকান, নতুন বাজার পশ্চিমের স্ট্যান্ড, কুন্ডুরপাড়ের ব্রিজসহ আরো বেশ কয়েকটি জায়গায় ভাসমান অবস্থায় মাদক কেনাবেচা হয়।

এসব স্পটে প্রকাশ্যেই পথচারীদের ডেকে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ধরণের মাদক। এসব জায়গাতে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, হুইস্কি, বিয়ারসহ নেশা জাতীয় ট্যাবলেট দেদারছে নিয়ে আসছে ব্যবসায়ীরা। হাত বাড়ালেই মিলছে এসব। এমনকি রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট চায়ের দোকানে বিক্রি হচ্ছে মরণ নেশা মাদক। মাদক বিক্রির অভিযোগে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়। কিছু দিন পর জামিনে বের হয়ে আবার মাদক বিক্রিতে জড়িয়ে পড়ে।

সারাদেশে মাদকের বিষাক্ত ছোবল শেষ করে দিচ্ছে তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনা। শুধু বানিয়াচং সদরেই নয় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে এই মরণব্যাধি মাদক। তাই এই মাদকের ছোবল থেকে যুবসমাজ তথা তরুণদের রক্ষা করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক নির্মুলে অভিযান পরিচালনা করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতনমহল। সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ালেই এদেরকে আটক করা সম্ভব হবে বলেও জানান তারা। নইলে এর করালগ্রাসে হারিয়ে যাবে হাজারে তরুণের আগামীর স্বপ্ন। আবার সচেতন মহলের অনেকের মতে, মাদকের গ্রাস থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে শুধু পুলিশি তৎপরতা নয় প্রয়োজন পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষা।

এই বিষয়ে বানিয়াচং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল ভুষণ রায় বলেন, ‘সচেতন সবাই একতাবদ্ধ হয়ে মাদকসেবীদের প্রতিহত করা না হলে এই মরণ নেশায় এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

সাংবাদিক শিব্বির আহমেদ আরজু বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক তুলে দিচ্ছে উঠতি বয়সী যুবকদের হাতে। যার মধ্যে বেশির ভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। মা-বাবার চোখের সামনে মাদকাসক্ত হচ্ছে ছেলে। এ কষ্ট কিভাবে মেনে নেবেন অভিভাবকরা। তাই দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনের তৎপরতা জরুরী।’

আলাপকালে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান হোসেন বলেন, ‘এই স্পটগুলোর কথা আমার জানা ছিলনা। তবে মাদক ব্যবসায়ীরা যতই শক্তিশালী হোক, আমাদের পুলিশের তৎপর রয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে। মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবীদের কোনো ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। সে যতই প্রভাবশালী হোক। তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত